চার্লি চ্যাপলিন – দি গ্রেইটেস্ট কমেডিয়ান অফ মোশন পিকচার

“A day without laughter is a day wasted”

 

কথাটি কিন্তু কোন দার্শনিক অথবা সাহিত্যিকের নয়। কথাটি বলেছিলেন বিশ্বের অন্যতম লেজেন্ডারি অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন।

charlie chaplin Posterr

২৫শে ডিসেম্বর চার্লি চ্যাপলিন এর মির্ত্যু বার্ষিকি। অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম মহান এই ব্যাক্তিকে নিয়ে একটি লেখা লিখব। সময় করে লিখেই ফেললাম। লেখাটিতে থাকছে,

*চার্লির পুর্ব জীবনের কিছু কথা,

*ফিল্ম জীবনের সূচনা থেকে শেষ পর্যন্ত কিছু জানা অজানা কথা

*তাকে নিয়ে কিছু ইন্টারেস্টিং ফ্যাক্টস

*এবং তার কিছু অসাধারণ কোটেশন

charlie chaplin Poster

স্যার চার্লস স্পেনসার চ্যাপলিন জুনিয়র সকলের কাছে পরিচিত চার্লি চ্যাপলিন নামেই। ১৬ই এপ্রিল, ১৮৮৯ সালে ইষ্ট স্ট্রিট, ওয়ালওয়ার্থ, লন্ডনে জন্ম গ্রহণ করেন চার্লি। চার্লি চ্যাপলিনের কোনো বৈধ জন্ম প্রমানপত্র পাওয়া যায়নি, তাই তার জন্ম নিয়ে সর্বদাই কুয়াশা রয়েছে। সংবাদ মাধ্যম নানা সময়ে নানা রকম তথ্য দিয়েছে তার জন্মস্থান সম্পর্কে। এমনকি তার চলচ্চিত্র জীবনের প্রথমদিকে চ্যাপলিন নিজেও একবার বলেছেন যে তিনি ফ্রান্সের ফঁতেউব্ল শহরে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। চ্যাপলিনের শৈশব কাটে প্রচণ্ড দারিদ্র আর কষ্টের মাঝে আর তাই হয়তো তিনি উপলদ্ধি করতেন দেওয়া ও পাওয়াতে কী আনন্দ। তিনি একটা কথা প্রায়ই বলতেন যে বৃষ্টিতে হাঁটা খুবই ভালো কারণ এই সময় কেউ তোমার চোখের অশ্রু দেখতে পায় না। অত্যধিক দারিদ্রই চ্যাপলিনকে শিশু বয়সেই অভিনয়ের দিকে ঠেলে দেয়…তার মা-বাবা দুজনেই মঞ্চের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন তাই এই পেশাতে আসাটাই তাঁর কাছে সহজ ছিল। ১৪ বছর বয়সে তিনি উইলিয়াম জিলেট অভিনিত শার্লক হোমস নাটকে কাগজওয়ালা বিলির চরিত্রে অভিনয় করেন। এই সুবাদে তিনি ব্রিটেনের নানা প্রদেশে ভ্রমণ করেন ও অভিনেতা হিসাবে তিনি যে খুবই সম্ভাবনাময় তা সবাইকে জানিয়ে দেন ।

charlie chaplin Poster 2

চার্লি ১৯১৩ সালের ডিসেম্বরে লস এঞ্জেলস এ আসেন। ১৯১৪ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি ফিল্ম বানানো শেখা শুরু করেন। এর পর ফেব্রুয়ারি ২, ১৯১৪ সালে চার্লির এক্টিং ডেবু ঘটে Making A Living ছবিটির মাধ্যমে। ১৩ মিনিটের ছবিটিকে চরম অপছন্দ করতেন চার্লি, কিন্তু তবুও তার সম্পর্কে একটি ভাল রিভিউ তাকে নিয়ে আসে লাইমলাইটে।

ফেব্রুয়ারি ৭, ১৯১৪ সালে Kid Auto Racers at Venice নামের ১১ মিনিটের শর্ট ফিল্ম এ আবির্ভাব ঘটে “Little Tramp” এর ।

The Tramp aka Little Tramp

চার্লি চ্যাপনিলের শ্রেষ্ঠ চরিত্র ছিল Little Tram যে রোলটি তিনি প্রায় ১২টি ফিল্মে প্লে করেন। শুরুটি হয় অনেকটি হঠাত করেই। Mabel’s Strange Predicament নামের একটি শর্ট ফিল্মে। সেখানেই চার্লি প্রথম ট্রাম্প রোলটি প্লে করছিলেন। কিন্তু মুভিটি পাবলিক রিলিজ পায় ফেব্রুয়ারি ৯, ১৯১৪ সালে Kid Auto Racers at Venice রিলিজের মাত্র ২দিন পরে। চার্লি চ্যাপনিল ১৯৩৬ সালে এসে তার Modern Times মুভিটির মাধ্যমে তার এই লেজেন্ডারি চরিত্রটিকে অবসরদেন।

LittleTramp

 

যে মুভি গুলিতে তিনি তার “ট্রাম্প” চরিত্র প্লে করেছিলেন সেগুলি হল,

এর পর একে একে তিনি আরও ফিল্ম বানাতে থাকেন। ১৯১৯ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠা করেন United Artists নামে একটি ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। ১৯২১ সালে মুক্তি পায় তার বিখ্যাত ফিল্ম The Kid। এরপর একে একে রিলিজ পায় A Woman in Paris (1923), The Gold Rush (1925), City Lights (1931), Modern Times (1936), The Great Dictator (1942), সহ আরও অনেক মুভি।

চার্লি ১৯৪৬ সালে Monsieur Verdoux নামে একটি কমেডি মুভির কাজ শুরু করেন যেটি কিনা ফ্রেঞ্চ সিরিয়াল কিলার Henri Landru কে নিয়ে ছিল। বিখ্যাত অভিনেতা ও ডিরেক্টর Orson Welles এর আইডিয়ার উপর ভিত্তি করে মুভিটির কাজ শুরু হয়। এ সময় মুভিটিতে ক্যাপিটিলিসম এর ক্রিটিসাইয করায় অনেক কন্ট্রভারসির সৃষ্টি হয়। এরপর রিলিজ পায় তার Limelight (1952) মুভিটি যেটি অনেকটাই ছিল চার্লির অটোবায়োগ্রাফিক্যাল ফিল্ম। কিন্তু সেই একই কন্ট্রভারসির কারনে তাকে আমেরিকা থেকে ব্যান করা হয়। এ নিয়ে তিনি শুধু বলেন,

“Whether I re-entered that unhappy country or not was of little consequence to me. I would like to have told them that the sooner I was rid of that hate-beleaguered atmosphere the better, that I was fed up of America’s insults and moral pomposity”

Charlie-Chaplin-charlie-chaplin-6485608-410-542

এরপর তিনি সুইজারল্যান্ডে মুভ করেন এবং আর কিছু ফিল্মের কাজ করেন। ১৯৬৪ সালের সেপ্টেম্বরে রিলিজ পায় চার্লির “My Autobiography” নামে ৫০০ পেইজের বই। বইটিতে ছিল তার চাইল্ডহুডের জীবন, তার পারসোনাল জীবনের নানান অজানা বিষয়। কিন্তু দুখের বিষয় হল বইটিতে তার ফিল্ম ক্যারিয়ার নিয়ে খুবই কম লেখা ছিল।

১৯৭২ সালে চার্লিকে অনারারি একাডেমী এওয়ার্ড দেয়া হয় । ২০ বছর পর তিনি এই প্রথম আমেরিকায় পা রাখেন। ১৯৭৫ সালে চার্লিকে ব্রিটিশ কুইন এলিজাবেথ ll নাইটহুড উপাধি দেন।

১৯৭৭ সালের ২৫শে ডিসেম্বর ক্রিসমাসের সকালে মির্ত্যু বরন করেন সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই অভিনেতা/ফিল্মমেকার।

charlie chaplin (1)

মহান এই অভিনেতাকে নিয়ে কিছু ইন্টারেস্টিং ফ্যাক্টসঃ

* চার্লি চ্যাপলিন ছিলেন প্রথম এক্টর যে কিনা টাইমস ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে স্থান পেয়েছিলেন।

*তিনি ৪ বার বিয়ে করেছিলেন।

*তিনি একটি মাত্র অস্কার পেয়েছিলেন। তিনি “লাইমলাইট” মুভির জন্য বেস্ট মিউসিক এর জন্য অস্কার পেয়েছিলেন।

*তার মেয়ে  Geraldine Chaplin ১৯৯২ সালের “Chaplin” মুভিতে তার মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।

*তিনি কমিউনিস্ট ছিলেন এমন সন্দেহে হলিউড “ওয়াক অফ ফেইম” থেকে তার নাম উঠিয়ে দেয়া হয় এবং সেটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অনেক কিছুই বললাম মহান এই মানুষটিকে নিয়ে বলার অনেক কিছু থাকলেও সবতো আর বলে শেষ করা যায় না। তাই আর কথা না বাড়িয়ে লেজেন্ডারি এই অভিনেতাকে রেস্পেক্ট জানিয়ে তার কিছু কোটেশন দিয়ে আমার লেখাটি শেষ করছি।

> “Nothing is permanent in this wicked world – not even our troubles.“-Charlie Chaplin

>”What do you want a meaning for? Life is a desire, not a meaning“-Charlie Chaplin

>”Man as an individual is a genius. But men in the mass form the headless monster, a great, brutish idiot that goes where prodded.“-Charlie Chaplin

>”Laughter is the tonic, the relief, the surcease for pain.“-Charlie Chaplin

>”I am at peace with God. My conflict is with Man.“-Charlie Chaplin

>”We think too much and feel too little.“-Charlie Chaplin

>”To truly laugh, you must be able to take your pain, and play with it!“-Charlie Chaplin

>”This is a ruthless world and one must be ruthless to cope with it.Charlie Chaplin

>”I suppose that’s one of the ironies of life doing the wrong thing at the right moment.“-Charlie Chaplin

Charlie-Chaplin-Wallpaper

 

(Visited 294 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ৭ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. ধ্রুব নীল says:

    চরম……অসাধারন একজন মানুষ কে নিয়ে অসাধারন একটি লেখা :thumbup:
    লেখায় :rate

  2. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    দারুন লিখেছ। তোমার লেখা ব্লগে দেখে তো অবাকই হলাম। আশা করি লেখা চালিয়ে যাবে। অনেক কিছু জানলাম। চ্যাপলিনের শেষ মুভি দেখেছি মডার্ন টাইম। তার মত অভিনেতা আসলেই দুর্লভ।

  3. Charlie Chaplin: A Man for all Season.
    অসাধারন লেখা। 🙂

  4. অসাধারণ একখান কাজের কাজ করেছেন! অসাধারণ চার্লিকে নিয়ে অনবদ্য পোস্ট… ভাল লাগল!!

  5. James Bond says:

    দ্যা গ্রেট অফ দ্যা গ্রেটেস্ট ।। স্যালুট

  6. ENAMUL KHAN says:

    খুব সুন্দর হয়ছে লেখাটা

  7. মেগামাইন্ড says:

    প্রত্যেকটা মুভি একেকটা মাস্টারপিস । এ লিজেন্ড

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন