Lebanon (2009)—একটি অর্থহীন যুদ্ধ ও জীবন!
Share on Facebook215Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

মাত্র কুড়ি বছর বয়সে ১৯৮২ সালের লেবানন যুদ্ধে বাধ্যতামূলক যোদ্ধা হিসেবে পাঠানো হয় পরিচালক স্যামুয়েল ম্যাওজ–কে। তিনি সে যুদ্ধের কঠোর বাস্তবতা, মানসিক বিপর্যস্ততা নিয়ে আত্মজীবনীমূলক সিনেমা Lebanon নির্মাণ করেন দীর্ঘ ত্রিশ বছর পর! একই সঙ্গে এ সিনেমার মাধ্যমেই পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে স্যামুয়েলের। বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসব ও সমালোচকদের ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করে নেওয়া এই পরিচালক যুদ্ধ ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিক আলোচনা করেছেন।

 

স্যামুয়েলের ভাষ্যে—”যুদ্ধ হলো সেই রাক্ষস যার বাঁচার মাধ্যম নরবলি, নয়তো তার অস্তিত্ব সংকটে।”

 

“একটা রূপান্তর লক্ষণীয় সেখানে। প্রথমত শারীরিকভাবে—যখন আপনার রুচি নষ্ট হয়ে যাবে, আপনার খাবার দরকার নেই। হঠাৎ করেই আপনি সবকিছু তীক্ষ্ণ ও পরিষ্কারভাবে শুনতে পাবেন। যখন আপনি এরকম চরম পরিস্থিতিতে পড়বেন—যেখানে জীবনের নিত্য নৈমিত্তিক নিয়মগুলি অচল, সেখানে স্বাভাবিক জীবনধারার যুক্তি–বিচার দিয়ে ভাবতে পারবেন না। যদি সেরকম করেন তাহলে সম্ভবত আপনার মৃত্যু অনিবার্য।”

 

“দিনশেষে আপনি আপনার দেশের জন্য যুদ্ধ করেন না, আপনার সন্তানের জন্যও না। আপনার সংগ্রাম আপন জীবন বাঁচানোর। বেশীরভাগই প্রথম দিনেই মারা যায়। আর আপনি যদি টিকে থাকেন—দ্বিতীয় দিন থেকে আপনি যুদ্ধের ঘুঁটি। এই কারণেই লক্ষ্যটা সংকীর্ণ। আপনি যদি পুরো দৃশ্যপটটা জেনে যান সেটা যুদ্ধের জন্য ফলপ্রসূ নয়।”

 

“পদাতিক সৈনিক হিসেবে আপনি স্বপ্ন দেখেন হালকা কোনো জখমের যা আপনাকে সসম্মানে যুদ্ধ থেকে রেহায় দেবে। কিন্তু ট্যাঙ্কের মধ্যে যুদ্ধরত অবস্থায় এটা অসম্ভব। হয় আপনি আস্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফিরবেন নয়তো কবর দেবার মতো কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। আপনার কফিনে পাথর ভরে দেওয়া হবে যেন আপনার বাবা ভাবে তিনি সত্যিই নিজের সন্তানকে কাঁধে করে ফিরছেন!”

এখানে উল্লেখ্য যে লেবানন সিনেমার মাত্র ৩টি দৃশ্য বাদে পুরোটাই একটা ট্যাঙ্কের ভিতরে আবর্তিত হয়েছে।

 

“আমি চেয়েছি সৈনিকের রক্তাক্ত আত্মাকে ধারণ করতে। এবং তা ফুটিয়ে তুলতে, বুঝতে মস্তিষ্ক নয় খিঁচে ধরা পাকস্থলী ও ক্রন্দনরত হৃদয় ব্যবহার করেছি। সংলাপ এখানে বিক্ষিপ্ত কারণ ভীত মানুষ কথা কম বলে।”

 

এত বছর পরেও হত্যার দায়বদ্ধতা সম্পর্কে তিনি প্রচণ্ড সচেতন—”এ থেকে পরিত্রাণের কোনো উপায় নেই। সবকিছুর পরে—আপনি সেখানে ছিলেন, আপনিই ট্রিগারে আঙ্গুল দাবিয়েছেন। আর কোনো উপায় ছিল না—এমন খোঁড়া যুক্তির কোন মূল্য নেই। হয়তো আদালতের রায়ে আপনি নির্দোষ কিন্তু কখনোই নিজেকে ঐ কলুষতা থেকে পরিষ্কার করতে পারবেন না।”

 

“আমি ভাবি, যদি এমন সহজ হতো বিষয়টা—শুধু দুঃস্বপ্ন থাকবে আমার! চমৎকার হতো ব্যাপারটা!”

 

সূত্রঃ দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস্‌

এই পোস্টটিতে ২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন