Cargo (2017)—আরো একটি জম্বি–হরর সিনেমা।

অস্ট্রেলিয়ার জনবিরল এক এলাকায় অ্যান্ডি (মার্টিন ফ্রিম্যান) তার স্ত্রী–কন্যা নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে। কেন আবার? জম্বি এ্যাপোক্যালিপস্‌! সিনেমার শুরুর দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে জমিতে দগদগে ক্ষতচিহ্নের মতো অনেকগুলো আগুনের কুণ্ডলী, একরাশ ধোঁয়া উড়ে যাচ্ছে দিগন্তে। পরবর্তীতে জানা গেলো ওগুলো ’আক্রান্ত’ মানুষের পোড়া দেহ!
‍‍‍‍‍‍
কীভাবে আর কেনই বা এই বিপর্যয়ের সূচনা তার কোন ইঙ্গিত নেই–তা মুখ্যও নয়। জোরকদমে জম্বি–বিপর্যয় চলছে। এর মাঝেই ‘কার্গো’–সদৃশ অ্যান্ডির কন্যার জন্য নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে হবে। চলছে বাবা-মায়ের তুমুল চেষ্টা। কিন্তু বিপত্তি বাধে যখন অ্যান্ডি তার জম্বি হয়ে যাওয়া স্ত্রী ক্যে-কে ‘সামলানোর’ চেষ্টায় নিজে কামড় খেয়ে বসে। এখন সে যে সাথে সাথেই জম্বি হয়ে যাবে তা কিন্তু নয়! পরিস্থিতি বিচারে ৪৮ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে পূর্ণ সংক্রমণ হতে।
‍‍‍‍‍‍
সাধারণত, খেয়েছো–কি–কামড়–হয়েছো–জম্বি এই সূত্র মেনে চলতে দেখা যায় এ ধারার সিনেমাতে। কিন্তু এখানে একটা ট্রাঞ্জিশন প্রসেসের মধ্য দিয়ে চরিত্রদের যেতে হবে এটা একটা বড় বৈশিষ্ট্য এ সিনেমার—যা মূলত শুরুতেই একটা হিন্ট দেয় যে আমরা সম্ভবত সিনেমার চরিত্রগুলোর চারিত্রিক মেটামরফোসিসের সম্মুখীন হতে যাচ্ছি। ভাবুন একবার, একমাত্র শিশুকন্যার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিৎ, নিজেই তার মৃত্যুর কারণ হয়ে যেতে পারেন—এমতাবস্থায় আপনার কীরকম পরিবর্তন আসবে চিন্তা চেতনায়!
‍‍‍‍‍‍
সিনেমাতে ভয় উদ্রেগ করবার মতো তেমন বিশেষ কোন দৃশ্য নেই। আছে শুধু মরিয়া বাবার উন্মত্ত চেষ্টা। তবে সেটা অযথাই টেনে লম্বা করা। ফিল্মটা পরিচালকদ্বয়ের একজনের ৭ মিনিটের একটা শর্ট ফিল্ম থেকে বানানো। পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা সেই আইডিয়াকে কোন সুবিচার করেনি।
‍‍‍‍‍‍
মার্টিন ফ্রিম্যানের স্বভাবগত নীরব অভিনয় বাবা অ্যান্ডিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। আশাহত বাবার সর্বোচ্চ চেষ্টা, শোকে পাথর হয়ে যাওয়া দৃশ্যগুলোতে তিনি চমৎকার।
‍‍‍‍‍‍
এ সিনেমার আলাদা করে উল্লেখ করবার মতো একটা দৃশ্য হচ্ছে একই ফ্রেমে শিশু রোজি অনাগত বিষাদের পূর্বাভাস হিসেবে কান্না করছে আর ওর ঠিক পেছনে অস্পষ্টভাবে আমরা দেখছি অ্যান্ডি ক্যে–এর ব্যবস্থা নিচ্ছে! সরলতা ও নিরুপায় অপরাধের কেমন যেন একটা ব্যালান্সড দৃশ্যায়ন।
‍‍‍‍‍‍
ভিগো মর্টেনসেন অভিনীত পোস্ট–এ্যাপোক্যালিপ্টিক ফিল্ম ২০০৯ এর বিখ্যাত The Road–কে ট্রিবিউট দেবার চেষ্টা করেছে কার্গো। কতটুকু সার্থক তার বিচার করা মুশকিল!
‍‍‍‍‍‍
সবমিলিয়ে, ইন্ট্রিগিঙ একটা সোর্স ম্যাটেরিয়ালের আশানুরূপ একসিকিউশন না হওয়ায় একটু হতাশ। তবে কার্গো’র একান্ত নিজস্ব কিছু মুহূর্ত আছে। প্রায় সবসময়েই সমান্তরালে চলা অন্তত দুইটা গল্পের মিলনে দুই ভাগ্যের নির্ধারণ নিয়ে জম্পেশ সেটআপ আছে। কিন্তু আমি আরো অনেক বেশী আশা করেছিলাম, যথেষ্ট কারণ এ সিনেমা একদম শুরুতে করেও দিয়েছিল নিজেই!

‍‍‍‍‍‍
৩/৫

(Visited 466 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন