বাঙলা (২০০৬)—ওঙ্কার, হুঙ্কার
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

বাঙলা (২০০৬)
পরিচালকঃ শহীদুল ইসলাম খোকন
লেখকঃ আহমদ ছফা
শ্রেষ্ঠাংশেঃ শাবনুর, মাহফুজ আহমেদ, হুমায়ুন ফরীদি

‍“জনকের কাঠিন্যমণ্ডিত বয়েসী ছবিটি স্মরণে এলেই কেন বলতে পারবো না, শরীরের আঁকে বাঁকে ঢেউ খেলে একটা ধ্বনি চেতনার রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রাণময় হয়ে ওঠে। পশু-পবিত্র পশু। হাঁ তিনি পবিত্র পশুই ছিলেন। আর তার পূর্ব পুরুষেরা ছিলেন যথার্থ পশু।” — ওঙ্কার, আহমদ ছফা।
‍‍‍‍‍‍
ওঙ্কার-এর পটভূমি ‘৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান। যুক্তফ্রন্ট সরকার জমিদারি প্রথার সাথে সাথে তালুকদারি প্রথা রদ করায় তালুকদার পরিবারে অযাচিত উদ্বেগ। ফুটা তালুকদার প্রধানের যায় যায় বিত্ত-বৈভব, জৌলুসের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকে তারই মোক্তার আবুনসর সাহেব। ভিটেমাটি থেকে উৎখাত হবার উপায় একটাই – উকিল সাহেবের বোবা মেয়ের সাথে ছেলের বিয়ে।
‍‍‍‍‍‍
নিতান্তই সাধারণ, ছকে বাঁধা কাহিনীর পরতে পরতে যে গভীরতা, এত প্রজ্ঞা তা বুঝি আহমদ ছফাতেই মানায়। সংলাপের অপ্রতুল্যতাকে ছাপিয়ে বাক্যের পর বাক্যে ন্যারেটিভের যে ভিন্ন মাত্রা তার সিনেম্যাটিক ট্রিটমেন্ট দূরহ একটা ব্যাপার।
‍‍‍‍‍‍
বাংলা সিনেমা জগতের প্রখ্যাত পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকন এই উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করেন “বাংলা”। বাণিজ্যিক সিনেমার এই তুখোড় রথী কোন দায় মেটাতে এমন একটি সৃষ্টিশীল সিনেমার জন্ম দিয়েছেন তা আমার অজানা। বক্স অফিসে এ ধারার সিনেমার সাফল্য যে আশাতীত তা ওনার জানা ছিলনা এমনটাও মনে হয়না।
‍‍‍‍‍‍
ওংকার-এর কেন্দ্রীয় চরিত্রের যে জটিলতা, মোরাল কম্পাসের যে গ্রে এরিয়া তার ব্যত্যয়; কিংবা বাবা-ছেলে-বোন এ ত্রয়ীর মনস্তাত্ত্বিক যে দ্বন্দ্ব তা থেকে বিচ্যুতি — এ সমস্ত অনুযোগ পাশ কাটিয়ে “বাংলা” তার নিজস্ব জায়গা থেকে সর্বপরি যে জগত তৈরী করে তাকে সম্মান জানানো আমার কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।

ছেড়া পোস্টার

ওপেনিং ক্রেডিটের বুদ্ধিদীপ্ত পোস্টার থেকে শুরু – হুমায়ূন ফরিদীর মোক্তার চরিত্রের উৎসকে ছাড়িয়ে যাওয়া, পতিভক্ত বোবা চরিত্রে শাবনূরের অনবদ্য অভিনয় — এসবই সিনেমার শক্তিশালী দিকগুলোর মধ্যে অন্যতম।

বোবা চরিত্রে অনবদ্য শাবনুর

ওঙ্কার-এর রাজনৈতিক ভাষার সিনেম্যাটিক চিত্রায়ন, পূর্ব বাংলার অস্থিতিশীল পরিবেশের রূপায়ন, আইয়ুব খানের পতন ও তাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মধ্যবিত্তদের জীবনে তার প্রভাব, সর্বপরি শহীদ আসাদ তথা বাংলার আপামর জনগণের সংগ্রামের সাথে বোবা স্ত্রীর ক্রমঃ যুদ্ধের প্যারালেলের দৃশ্যায়ন সবকিছুই উপরিপাওনা।
‍‍‍‍‍‍
নেইমলেস হিরোর চরিত্রে মাহফুজের একঘেয়ে অভিনয় এ সিনেমার সবথেকে বাজে দিক। এরপরে থাকবে এস্টাব্লিশিং ফ্রেমগুলো – সম্পাদনার কড়া কাট ও দৃষ্টিকটু ফ্ল্যাশব্যাক।

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন