The Cured (2017)—নতুন আঙ্গিকে জম্বি সিনেমা
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

জম্বি সিনেমা নিয়ে কত এক্সপেরিমেন্ট, ঘষা মাজাই তো দেখলাম কালে কালে। এ নিয়ে আর কীইবা আলাদা কিছু নির্মাণ করা সম্ভব! বলা যায় এক প্রকার ধুঁকে ধুঁকে মরতে বসেছে এই হরর সাব-জঁনরাটি। ঠিক এসময়ই একেবারে ফ্রেশ একটা কনসেপ্ট নিয়ে হাজির হয়েছেন ডেভিড ফ্রেইন তার The Cured সিনেমা নিয়ে।

“মেইজ ভাইরাস”–এর আক্রমণে পুরো ইউরোপ বিপর্যস্ত হোলেও একমাত্র আয়ারল্যান্ড ছাড়া বাকী সবাই প্রায় ঠিকমতই মোকাবেলা করতে পেরেছে এ সংক্রমণ। এ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যেই অবশেষে একটা প্রতিষেধক আবিষ্কার করেছে এ দেশেরই একজন ডাক্তার। ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ সুস্থ হয়ে গেছে। সুতরাং তাদেরকে সোসাইটিতে পুনর্বাসনের কাজ চলছে সরকার পক্ষ থেকে। যাদের আত্মীয় পরিজনরা ভাইরাস আক্রান্ত–জোম্বি এবং এ অবস্থায় করা পাশবিক নরহত্যার কথা জেনেও ফ্যামিলিতে জায়গা করে দিচ্ছে তারা ফিরে যাচ্ছে নিজ নিজ পরিবারে। বাকীরা আছে কেয়ার হোমে, অড জবস্‌ করতেছে।

 

সুস্থতার প্রমাণ দিচ্ছে শেনান

 

সুস্থ হয়ে গেলেও আক্রান্ত থাকাকালীন সময়ের সবকিছুই মনে আছে এদের। ঠিক ঠিক কী কী করেছে, হত্যা, ক্যানিবালিস্টিক বিহেবিয়ার সহ সবকিছুই। তাই এই পুনর্বাসনটা খুব একটা সহজ ব্যাপার নয় তাদের জন্যও। এর উপরে আছে এদের কাছে খুন হওয়া স্বজনহারা মানুষদের প্রতিবাদ, পদে পদে লাঞ্ছনা, অপমান। এরকমই সুস্থ হওয়া শেনান তার ভাবী ও ভাস্তের কাছে ফিরে এসেছে।

 

শেনানের ঘৃণ্য অতীত, বাকী ২৫% এর কী অবস্থা হবে, পুনর্বাসনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষদের প্রতিবাদী দল, বিক্ষোভ-দাঙ্গা এসবকে পুঁজি করে সিনেমা এগিয়ে যায়।

 

সিনেমাটি যতটা না জম্বি–থ্রিলার তার থেকে বেশী গ্লানি, পীড়া থেকে মুক্তি পাবার চেষ্টারত অচ্ছুৎ একজনের সমাজে ফিরে আসার উপস্থাপন। পাশাপাশি যে কেউ এটাকে আইরিশদের নিজস্ব রাজনৈতিক টালমাটাল অবস্থার (IRA) একটা রূপক হিসেবেও দেখতে পারে। কিংবা জাতপাত, ধর্ম, বর্ণ, জঙ্গি নিয়ে বর্তমান বিশ্বের অস্থিরতার একটা চিত্রায়ণ হিসেবেও নিতে পারে।

 

যেহেতু ড্রামাটিক এলিমেন্টের উপরে জোর বেশী তাই একটু পরপরই আনব্যালান্সড এক্‌সিকিউশন চোখে বাঁধে। চরিত্রগুলো প্রয়োজনের অতিরিক্ত সিরিয়াস যা প্রায়সময়ই ঠিকঠাক লাগলেও মানবিক আবেদনটা হারিয়ে গেছে। হ্যাঁ এখানেও মূল ধারার এ্যান্টাগনিস্ট আছে এবং তার উত্থানটা একদমই অযৌক্তিক, কোন সহায়ক সাব-প্লট নেই। কিংবা তার মানসিক ইন্সট্যাবিলিটি বা সেক্সুয়াল টেনশনের জন্য আলাদা করে কোন নজর নেই।

 

ইউজুয়াল ক্লাসিক জাম্প-স্কেয়ার এলিমেন্টস প্রচুর আছে, মাত্রা রেখেই আছে এবং উপভোগ্য। আর তার কার্যক্ষমতাকে টেনফোল্ড রূপ দিয়েছে সহায়ক সাউন্ড ইফেক্টস। ফ্ল্যাশব্যাক, কানে তালা লেগে যাওয়া শব্দ সবকিছু মিলিয়ে দারুণ এক আবহ যা ঐ থ্রিলার বিটটাকে কিছুটা হোলেও জাস্টিস করেছে।

 

সবমিলিয়ে—এটা জম্বি–এপোক্যালিপস্‌ নিয়ে একদম ফ্রেশ একটা টেক। দারুণ কিছু মোমেন্ট আছে, ক্ল্যাসিক হরর এলিমেন্টস আছে, সোশিও-পলিটিক্যাল স্টেইটমেন্টস আছে–যদিও সামটাইমস তা আরোপিত। তবে মোটেও পারফেক্ট কোন সিনেমা নয়—অ্যাজ এ ম্যাটার অফ ফ্যাক্ট, এই জঁনরার নিশ অডিয়েন্স না হোলে এঞ্জয়েবলও না।
‍‍‍‍‍‍

৩.৫/৫

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন