‘রাত্রির যাত্রী’ – একটি নতুন ভাবনার ছবি

10603674_562412607198139_1496701210745418657_n

দীর্ঘদিন বিরতির পরে দর্শকদের সামনে আবার ফিরে আসলেন পরিচালক হাবিবুল ইসলাম তার নতুন ছবি ‘রাত্রির যাত্রী’ নিয়ে। পরিচালকের সর্বশেষ শর্ট ফিল্ম ছিল ‘বখাটে (১৯৮৭)’ যা স্বাধীনতার উপরে নির্মিত হয়েছিল এবং সে বছর জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল। সম্প্রতি রাত্রির যাত্রীর যাত্রা শুরু হয়েছে রাজধানীতে একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যেখানে বিশেষ অতিথি এবং ছবিটির অভিনেতা ও কলাকুশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

রাত্রির যাত্রী'র উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

রাত্রির যাত্রী’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

 

ছবিটির ব্যাপারে বলতে গিয়ে পরিচালক জানান, “রাত্রির যাত্রী দর্শকদের একটি নতুন স্বাদ দিতে চলেছে চলমান গৎবাঁধা চলচ্চিত্রের ভিড়ের মধ্যে। এছাড়াও, দর্শকরা অভিনেত্রী মৌসুমির এক নতুন অবতার দেখতে চলেছে এখানে।”
 
তিনি বলেছেন, “চলচ্চিত্রটিতে একজন মেয়ের স্বপ্ন, যুদ্ধ, ভ্রমণ দেখা যাবে। গল্পের শুরুটা হবে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকায় মৌসুমির আগমনের মাধ্যমে। মৌসুমি রাজধানী শহরে এসেছে তার অনেক ভবিষ্যৎ স্বপ্ন পূরণের আশা নিয়ে, কিন্তু সে তার গল্পের শুরুতে অনেক বাঁধার সম্মুখীন হবে।”
 
তথ্য অনুসারে ছবিটির শুরু হবে আগামী মাস থেকেই এবং মুক্তি পাবে ২০১৫ সালের মধ্যে। কলাকুশলীদের মধ্যে রয়েছেন মৌসুমি, আনিসুর রহমান মিলন, এটিএম শামসুজ্জামান, সালাউদ্দিন লাভলু প্রমুখ। উল্লেখ্য ছবিটিতে ৬টি গান রয়েছে যা লিখেছেন সঙ্গীত পরিচালক হাবিব ওয়াহিদ। গানগুলো এখনো রচিত হয়নি, যাইহোক একটি রোম্যান্টিক গানের টিউনের কাজ শেষ হয়েছে রাজেসের পরিচালনাধীন অবস্থায়।
 
চলচ্চিত্রটির প্রচারণা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে ‘রাত্রির যাত্রী সহযাত্রী’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে। তারা সিলেট থেকে তাদের এই প্রচারণা শুরু করেছে এবং সকল বয়সী মানুষের মধ্যে তা প্রচার করছে। পরিচালক তাদের সহযোগিতায় কৃতজ্ঞ।
 
বিনোদন শিল্পের ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে পরিচালক বিশেষভাবে সবাইকে বলেছেন পাইরেসির বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে।
 
পরিচালক তার ক্যারিয়ার শুরু করেছেন ১৯৮৪ সাল থেকে ‘বিবর্ত সমাজ’ নামের একটি মঞ্চ নাটকের মাধ্যমে। পরবর্তিতে অসংখ্য সফল মঞ্চ নাটক যেমনঃ এরাও লাইলি মজনু, খাটি মীরজাফরের বাচ্চা এবং পথনাটক ব্যারিকেড চারিদিকে, সারাদিন পর, উলটো রাত পালটা দিন। তার অন্যতম প্রসিদ্ধ কাজ মঞ্চ নাটক ইদানীং তিনি ভদ্রলোক এর ১০০তম মঞ্চায়ন হয়েছিল ১৯৮৭ সালে প্রেক্ষাপটের পারফর্ম্যান্সের মাধ্যমে।
 
মঞ্চনাটকের পাশাপাশি হাবিবুল ইসলাম টিভি নাটকের কাজেও মনোযোগী হয়েছিলেন। তার প্রথম নাটক ছিল ভালবাসা ভালবেসে, বিটিভির জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল এটা। পরবর্তিতে তিনি ধারাবাহিক নাটকের কাজও করেছেন। তার প্রসিদ্ধ কিছু কাজের মধ্যেরয়েছে একটি গোয়েন্দা গল্প, গোয়েন্দা কাহিনী, গোয়েন্দা পাবলিক, সাদা রঙ, নিউ ফাইলস। বেশীরভাগ সম্প্রচারিত হয়েছে এটিএন বাংলাতে। তিনি কিছু এক ঘন্টার নাটকও করেছেন তুমি, ভাবনা নামের।
 
পরবর্তি সময়ে তিনি বিজ্ঞাপন এজেন্সি মিডিয়া বাংলা নির্মাণ করেন এবং টিভি বিজ্ঞাপন নির্মাণ শুরু করেন। তিনি অনেক তথ্যচিত্রও নির্মাণ করেছেন এবং এখন পর্যন্ত বানাচ্ছেন। তার সম্প্রতি নির্মিত তথ্যচিত্রের মধ্যে রয়েছে ওয়ার্ল্ড এনভায়রনমেন্ট ডে ২০১৪ এর জন্য ক্লিন সিটি গ্রিন সিটি নামের।

(Visited 121 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

    ইনফরমেটিভ পোস্ট। অনেক কিছুই জানতাম না…

  2. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    অনেক কিছু জানতে পারলাম। ধন্যবাদ। তবে কাহিনী শুনে মনে হচ্ছে একেবারেই সাধারন কাহিনী এবং এমন কাহিনী নিয়ে আগেও হয়েছে অনেক মুভি তবে আশা করা যাচ্ছে উপস্থাপনা ভিন্নধর্মী হবে বলে।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন