ভাষান্তরের ফাঁদে পাঁচটি চলচ্চিত্রের অদ্ভুত নাম !

লস্ট ইন ট্রান্সলেশন নামের বিল মুরে অভিনীত একটি বিখ্যাত চলচ্চিত্র আছে । সেটার টাইটেলের এমন লিটারেল মিনিং এর সিমিলারিটি যে কোনোকালে ডিস্ট্রিবিউশনের জন্য মুভির ক্ষেত্রে ঘটবে কল্পনাও করিনি কখনো ! হরহামেশায় এমন ব্যাপার ঘটে থাকে, তন্মধ্যে পাঁচটি ছবি ও তার বিতিকিচ্ছিরি নামের অনুবাদ নিয়ে এ ব্লগ । 

 

অ্যামেরিকান হাসল

1

ডেভিড ও’ রাসেলের অস্কার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যামেরিকান হাসল মুভিটা হলিউডি অনেক মুভির মধ্যে একটি যার টাইটেল অর্থাৎ মুভির নাম পরিবর্তন করতে হয়েছে অ্যামেরিকার বাইরে পরিবেশনার জন্য ! অনেক ভাষাতেই এই অ্যামেরিকান শব্দ ‘হাসল’ এর কোন সরাসরি অনুবাদ করা যায়না । এজন্য কলোম্বিয়া পিকচারস ফ্রান্সে পরিবেশনার ক্ষেত্রে মুভিটার নাম পরিবর্তন করে ‘অ্যামেরিকান ব্লাফ’ দিতে রাজী হয় ! একইভাবে ইসরায়েলে অ্যামেরিকান ড্রিম, আর্জেন্টিনাতে অ্যামেরিকান স্ক্যান্ডাল , পর্তুগালে অ্যামেরিকান স্টিং এবং কিউবেকে অ্যামেরিকান স্ক্যাম নামে পরিবেশনার ব্যবস্থা করা হয় !


সিল্ভার লাইনিং প্লেবুক

2

অ্যামেরিকান হাসলের মতো পরিচালকের এই মুভিটার ক্ষেত্রেও একই ঝামেলা পোহাতে হয় । উল্লেখিত মুভিটার নাম নেওয়া হয়েছিল একটা ফ্রেজ ‘every cloud has a silver lining’ থেকে । এখানে বোঝানো হয় যে অত্যন্ত খারাপ পরিস্থিতিও কোন না কোন ভাবে সুফল বয়ে আনতে পারে । ঠিক এরকম ব্যাপারটায় সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্র ব্র্যাডলি কুপারের ক্ষেত্রে মন্ত্রের মতো কাজ করে । কিন্তু এই ‘মন্ত্রের’ ভাষান্তরের ক্ষেত্রে সরাসরি অনুবাদ নেই । এখানে ‘প্লেবুক’ কথাটি দিয়ে বোঝানো হয়েছে পদ্ধতিগত নির্দেশনার বইকে, যে বই কিনা অ্যামেরিকান ফুটবলের সাথে সম্পর্কিত । সুতরাং ফ্রান্সে মুভির টাইটেল পরিবর্তন করে রাখা হয় হ্যাপিনেস থেরাপি আর রাশিয়াতে রাখা হয় মাই বয়ফ্রেন্ড ইজ এ সাইকো !!

 

ক্লাউডি উইথ এ চান্স অফ মিটবলস

4

১৯৭৮ সালে বের হওয়া শিশু সাহিত্যে ক্লাসিক তকমা পাওয়া অ্যামেরিকার একই নামের এই বইটির অ্যামেরিকার বাইরে তেমন কোন প্রভাব প্রতিপত্তি নেই । বিশেষত যে সমস্ত দেশে মিটবলস সাধারণ খাদ্য তালিকাতে নেই । ইসরায়েলে তাই এই বই অবলম্বনে তৈরি হওয়া এনিমেশন মুভিটার নাম পরিবর্তন করে ইট’স রেইনিং ফালাফেল দেওয়া হয় । এবং তুর্কিতে এটার নাম দেওয়া হয় ইটস রেইনিং কোফতা !

 

ল্যলেস

5

জন হিলকোটের পরিচালিত ২০১২ সালের এই ছবিতে দেখানো হয় অ্যামেরিকার একটা নির্দিষ্ট সময়কাল যখন অ্যামেরিকাতে ‘প্রহিবিশন’ যুগ চলছে । সে সময় সকল প্রকার অ্যালকোহল নিষিদ্ধ ছিল । মুভিটা একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস দ্য ওয়েটেস্ট কাউন্টি ইন দ্য ওয়ার্ল্ড অবলম্বনে তৈরি, যেখানে ‘ওয়েট’ শব্দটি ‘ড্রাঙ্ক’ এর সমার্থক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে । তাই রাশিয়াতে পরিবেশনার সময় এটার নাম রাখা হয় দ্য ড্রাংকেস্ট কাউন্টি ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ।

 

অস্টিন পাউয়ারঃ দ্য স্পাই হু শ্যাগড মি

Screenshot_1

অস্টিন পাউয়ার সিরিজের এই মুভিটার নাম আসলে অনুবাদের ঊর্ধ্বে ! তবুও অ্যামেরিকা ও যুক্তরাজ্যের বাইরের মার্কেটে পরিবেশনার জন্য পরিবর্তিত নাম প্রকৃতই শ্লেষকৃত ! যেমনঃ জার্মানিতে দেওয়া হয় দ্য স্পাই ইন এ মিশনারি পজিশন ! এছাড়াও যৌনতা নিয়ে বিভিন্ন দেশের রক্ষণশীল মনোভাবের উদাহরণ দিতে গেলে চায়নার জন্য দেওয়া পরিবর্তিত নামটি উল্লেখযোগ্য, দ্য স্পাই হু লাইকড মি এ লট ! কিংবা ক্রোয়েশিয়ার দ্য স্পাই হু গ্রোপড মি, ব্রাজিলের দ্য স্পাই গুড ইন বেড ও বিবেচনার বিষয় !

 

পূর্ব প্রকাশঃ দ্য বাংলাদেশ টুড্যে

(Visited 104 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. সামিয়া রুপন্তি says:

    " ইটস রেইনিং কোফতা"???? seriousloy?? আমি কোফতা খেতে খুবই পছন্দ করি, আমাকে Turkey তে গিয়েই থাকতে হবে!!! :v :v

    খুবই ভিন্নধর্মী একটা লেখা!!! পড়ে খুব মজা লাগল!!

  2. শাহরিয়ার লিমু শাহরিয়ার লিমু says:

    ট্রান্সলেশনের মাইরে বাপ কইরা দিচ্ছে এক্কেরে।

    বাংলাদেশের একটা আছে না, এক্স মেন মুভির টাইটেল দিছে, "খারাপ জ্বিন বনাম ভালো জ্বিন" :v

  3. ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

    এত্তগুলা জনপ্রিয় মুভি! অথচ একটা ইনফোও জানতাম না আগে। শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ… 🙂

  4. শাতিল আফিন্দি says:

    নাম বদলের ফলে মুভির আবহই নষ্ট হয়ে গেছে কয়েকটাতে! মজার পোষ্ট।

  5. তুর্কি দেশে থাকলে ম্যালা ভালো ভালো, ইমোশনালি অ্যাটাচড্‌, আমাদের দেশীয় কালচারের সাথে মেলে এমন ধরণের অসংখ্য ড্রামা ঘরানার মুভিও দেখে ফেলতে পারবেন চটজলদি 😉 @সামিয়া-পু 

  6. @ওয়াহিদ, 😛 😛 ঐটা ত এক টিকিটে দুই ছবির পোস্টারে ছিল :v 

  7. @ট্রিপল এস, আপনাকেও ধন্যবাদ পড়বার জন্য । বত্ব, আমিও জানতাম না আগে, ধারণাও করিনি আগে ! 

  8. শাতিল ভাই, একেবারেই বিশ্রী অবস্থা হয়েছে – লস্ট ইন ট্রান্সলেশন 

  9. সামিয়া রুপন্তি says:

    হুমম, সেটাই!! আর কোফতা তো আছেই!!! ডাবল বোনাস!!! 😀 😀

  10. Electrophile says:

    এরকম আরো কিছু অদ্ভুত ভাষান্তর হয় যখন হলিউডের ছবি ভারতে মুক্তি পায়, যেমন জেট লির "কিস অফ দা ড্রাগন" হয়ে যায় "মউত কি চুম্মা"(!!), "ব্রাইড এন্ড প্রেডুজিস" হয়ে যায় "বাল্লে বাল্লে অমৃতসর টু এল এ(LA)!!"

  11. ডানা মণি ডানা মণি says:

    খুব ই মজা পাইলাম। দারুন

     

  12. স্টয়িক says:

    এরচেয়ে তো গুগল ট্রান্সলেশন ভালো। এমনকি বিং ও ফেসবুকে এরচেয়ে ভালো রেসপন্স দেয় 😀

  13. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    হাহাহাহাহহাহা, সিলভার লাইনিংস প্লেবুকের কথা শুনেছিলাম কিন্তু বাকিগুলোর বিড়ম্বনা জানতাম না। দারুন একটা পোস্ট। ভালো লাগল অনেক। এত এত আইডিয়া নিয়ে এতদিন কেন লিখলেনা? এখন থেকে এমন ভিন্নধর্মী লেখা আরো চাই। 

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন