Antibodies (2005) ___ এক সিরিয়াল কিলারের গল্প
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

fc3e15196990a032f41e8c0ad975fa53_xlarge

||
সিরিয়াল কিলার নিয়ে করা মুভির ব্যাপারে আমি অন্ধভক্ত, তাই কোথাও কোন নাম পেলেই হয়, ম্যানেজ করতে যতটুকু দেরী বসে পড়ি দেখতে। ‘অ্যাঁন্টিবডিস’ এমনই এক ফেডোফাইল সিরিয়াল কিলার ‘ইঞ্জেল’-কে নিয়ে করা মুভি। তার নিজের পৃথিবী, নিজের আদর্শ, যুক্তি, চেতনা এবং সর্বোপরি ধারাল বুদ্ধি দেখে আমি হতবাক। তার কাছে এই পৃথিবী চরম বৈষম্যময় কেমন ভাবে সেটা দেখা যাক তার নিজের কথাতেই,

“দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ আনফেয়ার। ইভেন টু পিপল লাইক আস। পেদ্রো আলঞ্জো লোপেজ, “দ্য মনস্টার অফ দ্য আন্দিজ” কমিটেড থ্রি হানড্রেড সেক্স মার্ডারস। নাও, টুয়েন্টি ইয়ার্স লেটার, হু রিমেম্বার্স হিম? নট এ স্যোল। জ্যাক দ্য রিপার ইজ ওয়ার্ল্ড ফ্যামাউস, অ্যান্ড ফর হোয়াট? ফাইভ বিচেস। ফাইভ! অ্যান্ড চার্লি ম্যানশন, দ্য হিপ্পি দে কলড “আওয়ার এম্পেরর” ডিডন’ট ইভেন কমিট ওয়ান মার্ডার হিমসেলফ”

প্লটঃ “ইঞ্জেল, রহস্যময় সিরিয়াল কিলার। ওর টার্গেট শুধু কিশোর বয়সের ছেলেরা। ১৩টা খুনের দায়ে হন্যে হয়ে খুঁজছে বার্লিন পুলিশ। ও নিজেকে অন্য সব সিরিয়াল কিলারদের মত একজন শিল্পী হিসেবে মানে। রিলিজিয়াস পেইন্টিং করা ওর শখ, পেইন্টিং এর উপাদান আসে ওর টার্গেট গুলো থেকে। কাকতালীয় ভাবে ওকে ধরতে পারে পুলিশ। এদিকে গ্রামের পুলিশ Michael Martens ১২ বছরের লুসি’র খুনের সন্দেহে কথা বলতে যায় ইঞ্জেলের সাথে। শুরু হয় ওকে নিয়ে এক শ্বাসরুদ্ধকর যুদ্ধ। যুদ্ধ ভাল ও খারাপের মাঝে, নতুন করে সংজ্ঞায়িত হয় ভাল-খারাপের।” ___ এর বাইরে আর একলাইন কিছু বললেই সেটা স্পয়লার হয়ে যাবে মুভির।

শখের সংগ্রহের কথা আমরা জানি যেমন, ডাক-টিকিট, মুদ্রা ইত্যাদি সংগ্রহ করা আর সিরিয়াল কিলারদের সংগ্রহ? প্রতিটা সিরিয়াল কিলারের একটা কমন দিক থাকে তা হল প্রতিটা খুনের পরে ট্রফি সংগ্রহ করা। ইঞ্জেলের ট্রফি কি? প্রায় প্রতিটা সিরিয়াল কিলারেরই নিজস্ব একটা ব্যাখ্যা থাকে খুনের ব্যাপারে। ইঞ্জেলের ব্যাখ্যা কি? ওর আক্ষেপের ব্যাপারে শুরুতেই বলেছি। এ থেকে ওর মনোভাব কিছুটা আন্দাজ করে নেওয়া যায়। এর বাইরে কি আছে ওর মধ্যে যা ওকে আমার এত পছন্দের সিরিয়াল কিলার বানিয়েছে? ওর মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো কেমন যা ওকে আলাদা করবে অন্যান্য সিরিয়াল কিলার থেকে?

মুভির প্লট এর কিছু ব্যাপার নিয়ে কেউ হয়ত বলবে ‘দ্য সাইলেন্স অব দ্য ল্যাম্বস’ ও ‘সেভেন’ ___দুইটা গ্রেট মুভি থেকে ধার করে নেওয়া। আমি অস্বীকার করবোনা, বলব না যে মিল পাইনি কিন্তু তা শুধু ঐ জেলের মধ্যে একজন সিরিয়াল কিলারের সাথে পুলিশের কথোপকথনের ব্যাপারটাই মাত্র। লেকটার চরিত্র আমার সবচেয়ে প্রিয়দের মধ্যে একজন কিন্তু তবুও তার সাথে বাস্তবতার বিশাল দূরত্ব আছে অন্তত সেভাবেই দেখানো হয়েছে তাকে সমস্ত কিছুর ঊর্ধ্বে রেখে। সুপার্ব ফ্যান্টাসির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে ওকে দেখানোর সময় সেক্ষেত্রে ইঞ্জেল হল লেকটারের মতনই হিংস্র, ক্ষুরধার চিন্তা, ডিফারেন্ট চরিত্র কিন্তু পাশাপাশি বাস্তবতার সবচেয়ে বেশী মিশ্রণ। সেভেনে কেভিন যেখানে মানুষের চরিত্রের সাতটা ডেডলি সিন দেখানোর চেষ্টা করেছে সেখানে ইঞ্জেল এমন করে আলাদা আলাদা ভাবে কোন চেষ্টা করেনি। কীভাবে করেছে তাহলে?

মুভির পুরো সময় জুড়েই মাইন্ড গেম দিয়ে ভরা, তাই সুপার্ব একটা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার এটা বলতে কোন দ্বিধা নেই। সেইসাথে শক্তিশালী সংলাপে মুভির চেহারাই পালটে দিয়েছে। মাইন্ড কন্ট্রোলের ব্যাপারে লেকটারকে ছাড়িয়ে যাওয়া পসিবল না কিন্তু ইঞ্জেল যা করে দেখিয়েছে, যে উদাহরণ দিয়ে গেছে সেটা শুধু উপলব্ধি না চিন্তা-চেতনা চেঞ্জ করার জন্যও যথেষ্ট। ওর একটা লাইন দেখি,

“ইভিল ইজ আ ভাইরাস। হাইলি কন্টাজিয়াস। হাইলি ডেস্ট্রাক্টিভ। ইউ আর অলরেডী ইনফেক্টেড” ____কিভাবে হল এমন ইভিল এর ইনফেকশন? আর সেটার সাথে ইঞ্জেলের সম্পর্ক কি? ওর অবদানটা কোথায়? মুভি দেখতে দেখতে এমন জিজ্ঞাস্য তৈরি হতেই পারে, “জাস্ট হাউ গুড ইজ এ ‘গুড’ ম্যান?” উত্তর পাওয়া যাবে মুভির মধ্যেই, কীভাবে? হলি ট্রিনিটি কি? সিরিয়াল কিলারের জন্য যে তিনটা নিদর্শন অনেক ছোট থেকেই দেখা যায় সেগুলো কি কি? “বেডওয়েটিং, টরমেন্টিং অ্যাঁনিমেলস, সেটিং/প্লেয়িং উইথ ফায়ারস” __ এই তিনটার ব্যাপারে কোন আইডিয়া আছে কি?

সবশেষে এটাই বলার আছে, সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ভাল লাগে? মাইন্ড নিয়ে খেলা করার ইচ্ছে আছে? শকড হওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে আছে? উপরের লেখার মধ্যেকার অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর জানার ইচ্ছে হয়? জানতে ইচ্ছে হয় এই ইঞ্জেল-কে? গো ফর দ্য মুভি ম্যান :/

বি.দ্র. জার্মান মুভি এটা, ধরে নিচ্ছি কেউ জার্মান ভাষা জানেনা তাই কেয়ারফুল দেখার সময় 😛 ইংলিশ ডাব্বড কিছু নেই এই মুভির, সাবটাইটেল একমাত্র ভরসা।

ডাউনলোড লিঙ্ক =>

পূর্ব-প্রকাশঃ সামু

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন