Kali-মুভি রিভিও

Rage শব্দের অর্থ রাগ, অতিমাত্রায় বদমেজাজ। “Kali” হিন্দি শব্দ যার বাংলা অর্থ আক্ষরিক ভাবেও দাড় করালে দাঁড়াবে ‘কালী, মানে কালো কালি দিয়ে যে লেখা হয় সেই কালি’ কিন্তু এখানে Rage মানে কালী বোঝাতে যে কালী ব্যাবহার করা হয়েছে তা হচ্ছে হিন্দু ধর্মালম্বিদের ‘মা কালী’ যার সিম্বোল হচ্ছে ভায়লেন্স মানে হিংস্রতা।

Kali is the Hindu goddess (or Devi) of death, time, and doomsday and is often associated with sexuality and violence but is also considered a strong mother-figure and symbolic of motherly love.

এই পৃথিবীতে আমরা মানুষ রুপে জন্ম নিলেও আমাদের ভেতর কিছু প্রকৃতি গত বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেগুলো কে আমরা Human Devil Nature (The seven deadly sins) হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকি। সেগুলো হচ্ছে-

1.Pride (গর্ব)
2.Covetousness, (লালসা)
3.Wrath, (ক্রোধ)
4.Envy, (হিংসা)
5.Gluttony, (বিলাসিতা)
6.Sloth,(অলসতা) and
7.Lechery (লাম্পট্য)

“Kali” মুভিটি এই সাত টি মনুষ্য পাপ স্বভাবের তিন নাম্বার স্বভাব ‘ক্রোধ’ নিয়ে। এই সাত টি স্বভাবই একটার সাথে আরেকটার কোথাও না কোথাও রিলেট করে যা মুভি দেখলে বুঝতে পারবেন। মুভিতে সাত টি ব্যাপারই আছে বিভিন্ন চরিত্রের দ্বারা যা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তবে “ক্রোধ” কে মেইনলি প্রধান চরিত্রে হাইলাইট করা হয়েছে।

সিদ্ধার্থ’ ছোটবেলা থেকে বড্ড রাগি স্বভাবের ছেলে, সামান্য কিছুতেই তার রাগ খুব বেশিমাত্রায় প্রকাশ পায়। স্কুল,কলেজ জীবনেও এই রাগ তার একটুও কমেনি বরং বেড়েছে অনেক গুন। সময়ের সাথে সাথে ক্যারিয়ার ও সংসার জীবনে এসে এই রাগ তার জীবনে অনেক সমস্যা বয়ে নিয়ে এসেছে। ব্যাংক জব সুতরাং রাগ কে নিয়ন্ত্রনে রাখতেই হবে ক্লাইন্ট দের সাথে ডিল করতে হলে।
‘অঞ্জলি’ নামের এক শান্ত স্বভাবের মেয়ের সাথে কলেজ জীবনেই প্রেম শুরু এবং তারপর বিয়ে। অঞ্জলি সিদ্ধার্থের এই রাগি স্বভাবের ব্যাপারে খুব ভাল করেই জানে। তবে সিদ্ধার্থ কে ভালোবেসে সে সব মেনে নিয়েছে কারন সিদ্ধার্থ এর এই একটি মাত্রই সমস্যা যে সে অতিমাত্রায় বদমেজাজি আর কোনো সমস্যা নেই। না সে ডিসলয়েল, না মিথ্যা বলে, লোভী না সে ভালবাসা তে কমতি রেখেছে। তার অনেক অস্বাভাবিক আচরণই সে তাই সহ্য করে নীরবে কিন্তু সহ্যের তো একটা সীমা থাকে। অঞ্জলিও তাই অনেক বেশি বিরক্ত যা তাদের সম্পর্ক টাকেও ধীরে ধীরে প্রভাবিত করছে। সিদ্ধার্থের এই অতিমাত্রার রাগের জন্য অনেক সমস্যা হচ্ছে। স্বাভাবিক কোনো মোমেন্ট নিমিষেই অস্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। এরপরও তার রাগ কিছুতেই কমে না, বরং বেড়েই চলছে। সামান্য কোনো শব্দ কিংবা কোনো ঘটনা কিংবা অপছন্দের কিছু যা চাইলেই হয়তো আমি-আপনি ইগ্নোর করে যেতে পারি সে সব কিছুতেই সিদ্ধার্থ এর এই রাগ সব কিছুকেই অসহনীয় করে তুলছে।

তাহলে কি এর কোনো সমাধান নেই? ইয়োগা, জোগ ব্যায়াম সবই ট্রাই করা শেষ, সিদ্ধার্থ নিজেও কম চেস্টা করছে না তারপরও কি করবে? এই ক্রোধ যে বলে কয়ে আসে না। ইহা অনিয়ন্ত্রিত। পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ রয়েছে যাদের মুখে একটি বাক্য খুব কমন ‘মানুষটি মানুষ হিসেবে খুব ভালো কিন্তু তার এই বদ মেজাজি স্বভাবটাই যতো ঝামেলা’ এ জন্য যে কতো সংসারও ভেঙ্গে গেলো তারও হিসেব নেই। ‘এমন বদমেজাজি মানুষের সাথে সংসার করা যায় নাকি?’

মুভিটি দেখুন, কিভাবে যায় এবং কেন করা উচিত বুঝে যাবেন। 🙂
আর ঐ সাত টি মনুষ্য পাপ স্বভাব আমাদের সবার ভেতরই আছে, কারো হয়তো কোনোটা কম বা বেশী। হয়তো কারো রাগ কম লোভ বেশী, কেও হিংসা নাই বিলাসিতা আছে, কেও অলস তো কেও লম্পট। কারো আবার সাত টির সাতটি আছে, তবে সাত টির সাত টিই থাকলে সে তবে আর মানুষ হয়ে বেচে নেই দুনিয়াতে পুরোটাই অমানুষ হয়ে গিয়েছে। আর সাত টির একটিও যাদের ভেতর নেই তারা Saint মানে পবিত্র। সে নিয়ে পরে একদিন কথা হবে। কিন্তু এই স্বভাব গুলো যেহেতু মানুষেরই আছে তাহলে মানুষই নিশ্চয়ই পারে এগুলোকে নিয়ন্ত্রন করে জায়গা মত ব্যাবহার করতে আর সেই ব্যাবহারেই আসলে প্রকাশ পায় মনুষ্যত্ব। এই একটি মাত্র ক্ষমতা যা শুধু মানুষেরই আছে।

কাহিনীর কথা বলতে গেলে বলতে হবে কাহিনী খুবই সাদামাটা, নতুনত্ব সেভাবে কিছু নেই। মালায়ালাম মুভি যারা দেখেন তাদের অনেকেই Dulquer Salmaan এর ভক্ত। তার প্রতি ভক্তদের এক্সপেকটেশন থাকে সব সময় অনেক বেশি সে জায়গায় বললে গল্পের দিক থেকে একটু ডিসাপয়েন্ট হবেন। এছাড়াও এই মুভিতে আছেন “প্রেমাম” খ্যাত মালার (সাই পাল্লাভি) তার ভক্তদের মধ্যে এই মুভি নিয়ে এক্সাইটমেন্ট ছিলো অনেক বেশী। অভিনয়ের দিক থেকে সে তা পুরটাই দিয়েছে। Dulquer Salmaan এবং Sai Pallavi বরাবরের মতই খুব সাবলীল ভাবে সুন্দর অভিনয় করে গিয়েছেন। কিন্তু মুভির কাহিনী আশাব্যঞ্জক নাও লাগতে পারে বরং মনে হতেই পারে যে ছোট একটা গল্পকে টেনে টেনে বড় করা হয়েছে তবে তবুও মুভিটি তে আপনি রোমান্স, থ্রিল,একশন সবই পাবেন। একটু গভীর ভাবে চিন্তা করে নিলে হয়তো বেশী কিছুও পেতে পারেন। কারন উপরে আমি যে পেচাল গুলো পারলাম সেগুলো ত আমি মুভি থেকে নিয়েই লিখলাম, তাইনা?

ক্রোধ শুধু মানুষের না,ছোট্ট প্রানি বিড়াল থেকে শুরু করে এই পৃথিবীর প্রকৃতির ভেতেরেও কাজ করে, মুভির প্রথম সিনে বিড়ালের একটি দৃশ্য আছে যেখানে বিড়ালের মাছ খেতে না পারার ক্রোধের দৃশ্য রয়েছে, এই ক্রোধ কিভাবে অন্ধকার নিয়ে আসে তা মুভির লাস্টের দিকে পাবেন যা পৃথিবীর প্রকৃতিকে রিপ্রেজেন্ট করেছে আর সবশেষে কিভাবে পবিত্রতার ছোঁয়ায় আলোকিত হয়ে এ ধরনীতে ভোর হয়ে আসে সেটাও পাবেন। জাস্ট একটু মানে একটু গভিরতায় যেতে পারলেই আর মনোযোগ দিলেই হবে। এতো কস্ট করে রিভিও পড়লে মুভিটিও দেখে ফেলুন না হয়।

মুভিটি দেখতে চাইলে-
http://bit.ly/29xAcc9

 

13697293_1760305697545958_132329780349119338_n

Error: No API key provided.

(Visited 367 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ৬ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Bushra says:

    মুভি রিভিও লিখা শিখেন আগে! যত্তসব ঘ্যান ঘ্যান প্যাঁন প্যাঁন লাগাইছে !!!

    • দু:খিত, আরো শিখে পোস্ট করার চেস্টা করবো। আর আপনি এসব ঘ্যান ঘ্যান প্যাঁন প্যাঁন পইড়েন না। 🙂

    • Bushra says:

      যাক! লেখক রিপ্লাই দিছে! ভাইয়া একটু ডিরেক্ট লিখলে ভালো হয়! এত এক্সট্রা কথার কারনে মেইন কথা পড়ার ই আর ধৈর্য থাকে না! খুব আগ্রহ নিয়ে লিঙ্কে ঢুকছিলাম বাট পড়া বাদ দিয়ে চলে আসতে হইছে! বায়োস্কোপ এর রিভিও ভালো লাগত দেখেই পড়ি! বাট আশা করি এই ব্যাপার গুলা রাইটার রা খেয়াল রাখবে! 🙂

    • আসলে আমি মুভির প্লট ধরে কম লিখি, চেস্টা করি স্পয়লার ফ্রী লিখতে যার কারনে এতো ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে লিখতে হয়। আর এক্সাক্ট রিভিও বলতে যেটা বোঝায় সেটাও লিখতে গেলে এই মুভি নিয়ে তেমন কিছুই লিখা যায় না। একেক জনের লিখা একেক রকম, আমার টা এমন আর কি। আপনার আশা ভঙ্গ করার জন্য আমি সত্যি দু:খিত।তবুও আমি অবশ্যই খেয়াল রাখবো আপনার কথা।

  2. মুভি রিভিউ লেখার জন্যে ধন্যবাদ, কিন্তু একটা বিদেশি ভাষার মুভি নিয়ে লিখলে সেটার ডাউনলোড লিংক এর সাথে দেশি বা আন্তর্জাতিক সাব-টাইটেল দেয়া উচিত !

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন