চলচ্চিত্র নয়, স্বপ্নচিত্র
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

কোথায় যেন যাচ্ছি। রিকশা, সিএনজিগুলো সব রাস্তার উপ্রে অবাধ্য ছেলের মত দাঁড়িয়ে। গায়ের উপ্রে চলে আসছে বাস, টেম্পু, রেঞ্জারগুলো; সেগুলোতে উপচে পরছে বাদুড়-চামচিকার মত মানুষগুলো। শহরের ব্যস্ততম রাস্তাগুলোতে একই সাথে শুরু হওয়া বিবিধ কতৃপক্ষের শু-পরিকল্পিত নির্মাণযজ্ঞ, শীতকালে ফ্রি ধূলাবালির আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা, বর্ষাকালে ফ্রি কাদায় অবগাহন, গ্রীষ্মে নিজেদের শরীরের ঘাম ও দূর্গন্ধের সাথে ফ্রি ওরিয়েন্টেশন। ড্রেন বেয়ে নালার পানি রাস্তায়, ম্যানহোলের ঢাকনা খোলা, ফুটপাতে মল-মূত্রের রেজিস্টার্ড বিজিনেস, খাল দখল করে বানানো হঠাৎ কোন এক কমার্শিয়াল ভবন। পুলিশের কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় চৌরাস্তার মোড়ে এক অসমাধানযোগ্য যানজট, কেউ কাউকে আগে যেতে দিচ্ছে না, রাস্তার সাইডে থাকা বিভিন্ন মহলে চাঁদা দিয়ে হালাল করা হকারদের আগ্রাসনের কারণে অবস্থা আরো বেগতিক। মাথার উপ্রে থাকা সুবিশাল ফ্লাইওভার শুধুই যেন এক স্মৃতিসৌধ। নিজের জন্য দৈব কিছু ভিক্ষা চাইতে যাবো, তার আগে দেখি আমার চারপাশে চার ধরণের ভিক্ষাপ্রার্থী; একজনের রেফারেন্স ক্রন্দনরত শিশু, আরেকজনের প্রোফাইলে দুরারোগ্য ব্যাধি, অন্যজনের পোর্টফোলিও-তে অনিরাময়যোগ্য বার্ধক্য, সবশেষে হাত-পাতা টোকাই-টা মনে হয় কোন সিন্ডিকেট মেম্বার। ওদের থেকে চোখ ফিরাতে না ফিরাতেই কোত্থেকে জনাবিশেক লোকের মিছিল, চতু্র্দিকে পলায়নরত মানুষ, কমান্ডো স্টাইলে ভারী অস্ত্রসজ্জিত পঞ্চাশ-ষাটেক পুলিশের আগমন, সাথে দেশীয় অস্ত্র হাতে “অনুমোদিত” বেসামরিক ক্যাডারবাহিনী। সবার দৌড়াদৌড়িতে যে যাকে পারে মারছে, পুলিশ যাকে হাতে পাচ্ছে ভ্যানে তুলে নিচ্ছে, আমি ঠাই মাঝে দাঁড়িয়ে আছি। অন্তিম মুহুর্তে দুটো ককটেল কিংবা পটকার কর্ণভেদী বিস্ফোরণ, কাদের যেন গগনবিদারী আর্তনাদ।
সবকিছুকে পর্দার আড়ালে ফেলে আমি হারিয়ে যাই এক ফ্যান্টাসীর জগতে, ঠিক “সাকার পাঞ্চ” মুভির মত। ধোঁয়ায় ঢাকা সূর্যকে উন্মোচিত করে পটভূমিতে আসে “হাল্ক” মুভিতে দেখানো “গানশিপ” হেলিকপ্টার। ঘটনার অদূরে ফ্লাইওভারের উপর ল্যান্ড করে সেটি; ভিতর থেকে গ্লাস ভেঙ্গে সাউথ ইন্ডিয়ান হিরোর মত একলাফে বেরিয়ে আসি আমি; পরনে “ম্যাট্রিক্স” মুভির “নিয়ো”-র ব্ল্যাক ওভারকোট, যার পরতে পরতে আধুনিক অস্ত্র ও গ্যাজেট। কানে “ব্লেড ট্রিনিটি” মুভির জেসিকা বেলের মত এমপিথ্রি প্লাগ লাগানো, চোখে “কোয়ান্টাম অব সোলেস” মুভির জেমস বন্ডের সানগ্লাস, চুলের স্টাইল “আওয়ারাপান”-এর এমরান হাশমির মত, মুখ থেকে সিগারেটটা নিয়ে ছুড়ে ফেললাম “ডন”-এর শাহরুখের মত। “গডফাদার” স্টাইলে গানশিপ থেকে নামতে বললাম “এক্সমেন”, “এভেঞ্জারস”, “জাস্টিস লীগ”, আর “এক্সপেন্ডেবলস”-এর সৈন্যদেরকে। ওরা ওদের মত করে গেল দেশের পরিস্থিতি মোকাবেলায়। আমি এগিয়ে গেলাম ফ্লাইওভারের রেলিং-এর উপ্রে, ওভারকোট খুলে ফেললাম, পরনে “ফাস্ট & ফিউরিয়াস”-এর ভিন ডিসেলের গেঞ্জি, শারীরিক অবয়ব “পেইন & গেইন”-এর ডোয়েইন দ্যা রক জনসনের মত, বামহাতে সাল্লু ভাইয়ের ব্রেসলেট, ডানহাতে “মাশিটি” মুভির মাশিটির মত ট্যাটু।
ফ্লাইওভার থেকে “সুপারম্যান” স্টাইলে এক লাফে নিচে নামলাম। বালিভর্তি বিশাল এক লরি এগিয়ে আসছিল আমার দিকে, “হেলবয়” মুভির হেলবয়ের মত এক ঘুষিতে লরিটা কুপোকাত করতেই হল। পাশেই রেলক্রসিং-এর ওপারে রেললাইনের ঠিক উপরে থেমে থাকা এম্বুলেন্সের ড্রাইভারটি ইটের আঘাতে রক্তার্ত, ভিতরে রোগী ও তার স্বজনেরা। এদিকে দ্রুতবেগে এগিয়ে আসছে রেলগাড়ী, আমি গিয়ে “হ্যানকক” স্টাইলে সেটি থামালাম। এরপর “সিংঘাম” স্টাইলে সব অবাঞ্চিতদের ধোলাই করতে লাগলাম, কাউকে কাউকে “একশন-জ্যাকশন” ভঙ্গিতে পরপারেও পাঠালাম; মানে রেললাইনের ওপারে। ঘটনাস্থল নিয়ন্ত্রণে এনে নিজের সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে “শিভাজী” স্টাইলে দেশের সব মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা নিয়ে আনলাম, সব অর্থলোভী রাক্ষসদের “গ্র্যাভিটি”-র সীমার বাইরে পাঠিয়ে দিলাম। সবশেষে “নায়ক” মুভির টিভি-রিপোর্টার শিবাজীর মত দেশের ক্ষমতালিপ্সুদের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে জনগণকে সাথে নিয়ে অপরাজনীতিকে “পিকে”-র সাথে ভিনগ্রহে পাঠিয়ে দিলাম।
নাহ, আর পারছি না। বাকিটা ঘুমিয়ে দেখি।

Nayak: The Real Hero (2001)
Nayak: The Real Hero poster Rating: 7.7/10 (3,520 votes)
Director: S. Shankar
Writer: Anurag Kashyap (dialogue), S. Shankar (story)
Stars: Anil Kapoor, Rani Mukerji, Amrish Puri, Johnny Lever
Runtime: 187 min
Rated: N/A
Genre: Drama, Action
Released: 07 Sep 2001
Plot: A man accepts a challenge by the chief minister of Maharashtra to run the state for one day, and makes such a success of it that soon he is embroiled in political intrigue.

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন