Argo – বাস্তব ঘটনা নিয়ে নির্মিত অনন্য একটি পলিটিকাল থ্রিলার

Argo এর সব চেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট একটা সত্য ঘটনাকে ফিল্মি কায়দায় পরিবেশন করতে পারা। ১৯৭৯ সালে ইরানে আমেরিকান দূতাবাসে বিপ্লবিরা আক্রমন করে ৬০ জন আমেরিকান কে হসটেজ করে আর ৬ জন আমেরিকান কোনোক্রমে সটকে পড়ে আশ্রয় নেয় কানাডিয়ান দূতাবাসে। ২ মাস ওখানে বন্দী থাকার পর তাদের ছাড়িয়ে আনার জন্য CIA নিয়োগ করা হয়। খুব একটা সহজ কোন উপায় না দেখে এক্সফিলট্রেশান এক্সপার্ট টনি মেন্দেজ একটা দুঃসাহসী প্ল্যান করে। “আর্গো” নামে একটা ভুয়া ফিল্ম বানানোর জন্য হলিউডের মেক আপ আর্টিস্ট, প্রযোজক ভাড়া করে, প্রেসেও বিজ্ঞাপন করে , মুভি তে মূল অভিনেতা ৬ জন ই হবে বন্দী ৬ জন আমেরিকান। অনেক কাঠখড়, দ্বিধা দ্বন্দ্ব পেরিয়ে প্ল্যান টায় তারা go-ahead পায় আমেরিকান কর্তৃপক্ষ থেকে।

argo01-640x420

৮০ এর দশকের শুরুর দিকে সত্যি সত্যি এরকম ঘটনা ঘটেছিল, যেটা পরে ১৯৯৭ সালে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন অফিশিয়ালি প্রকাশ্যে আনেন। সেখান থেকে পরে রিয়েল লাইফে ২টা টিভি ডকুমেন্টারি হয়, বই বের হয়। পরে বেন আফ্লেক হলিউডে এটা হলিউডি কায়দায় নির্মাণ করেন।

প্রথমত শুরু থেকেই এটা একটা পলিটিকাল থ্রিলার। আমেরিকান দূতাবাসে আক্রমনের দৃশ্য গুলি এত লোমহর্ষক ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যে দর্শক হিসেবে তখন থেকেই বুদ হয়ে যাওয়া যায় গল্পে, সত্যি ঘটনা হলেও সাধারণ মানুষ দের জন্য সম্পূর্ণ অজানাই ছিল এতদিন ঘটনা টা। সেটাকে বাস্তবতার আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে চমৎকার সেট ডিজাইন, রূপসজ্জা এবং সিনেমাটোগ্রাফি।
বেন আফ্লেক কেন্দ্রিও চরিত্রে খুবই লো-কি অভিনয় করেন, এ ধরনের রোলে পরিচালকের সিট এ বসে আবার মূল চরিত্র করতে গেলে অনেক সময় অনেক বেশি এক্সত্রিম কিছু করে ফেলার সুযোগ থাকে। সেখানেই আফ্লেক বাহবা পাবেন, একজন নায়ক চরিত্র হলেও নায়কীয় কোন কিছু করতে চান নি তিনি। বরং তার আশেপাশে পার্শ্বীয় সব কয়টা চরিত্র দুর্দান্ত অভিনয় করে গেছেন। John Goodman, Alan Erkin, Bryan Craston ছাড়াও বন্দী ৬ জনের অভিনয় ছিল অনবদ্য। Alan Erkin কমিকাল একটা রোলে ছিলেন, তার সংলাপ গুলা দারুণ আনন্দ দিয়েছে, যদিও এই একটা চরিত্রই ছিল সম্পূর্ণ বানানো।

মুভি টির ১ম হাফ অনেক ফাস্ট পেসড, এরপর পেস খানিকটা স্লো হয়ে আসে যখন Argo মুভি এর যোগাড়জন্ত করে টনি মেন্দেজ। এরপর শেষ আধা ঘণ্টা মুভি এর সব চেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ফিল্মি দিক, যেটার জন্য সমালোচক দর্শক সবার মুভি টার প্রতি গ্রহনযোগ্যতা বেড়ে যায়। দুর্দান্ত চিত্রনাট্য আর সম্পাদনা এখানে অপরিসীম অবদান রেখেছে। পলিটিকাল থ্রিলার অনেক সময়ই বেশি বাস্তবিক করতে গিয়ে বোরিং ডকুমেন্টারি স্টাইল হয়ে যায়। Argo কে কেউ এই দোষে দোষী করতে পারবেনা আফ্লেকের এর সহজ স্টোরিটেলিং এর কারনে। এটা এমন একটা মুভি যে সব বয়সী সব দেশের মানুষ দেখতে পারবে। পুরো মুভি তে  হাতে গোনা ২ ৩টা ঘটনা মুভি এর স্বার্থে ফিকশানালাইজড ছিল। এ জন্যই শুরুতেই লেখা ছিল – ” Based on a true story “। কমার্শিয়াল মুভি এমন হলেই মানায়। বেন আফ্লেক তাই এখন পর্যন্ত হলিউডের সব চেয়ে সফলতম পরিচালক দের একজন, যার পরপর ৩টা মুভি ই দর্শক সমালোচক দ্বারা সমাদৃত হয়েছে। অনেকে তাঁকে নেক্সট ক্লিনট ইস্টউড বলছেন।

তবে আমি ব্যাক্তিগতভাবে মনে করি বেন এর রোলটা অন্য কেউ করলে আরও ভাল হত। CIA হিসেবে ওর চেয়ে জর্জ ক্লুনি কে সব চেয়ে বেশি মানাত। মুভি হিসেবেও Argo কে আমি গ্রেট এর তালিকায় ফেলতাম, যদি শেষের দিকে ফিল্মি কায়দা আর একটু কম অবলম্বন করে আরও সত্যিকারের তথ্য থাকত।

তবুও who cares?

সর্বোপরি বাস্তব গল্প এবং পারফেক্ট ফিকশানালাইজেশানে ১০০ মিনিটের সলিড একটা মুভি Argo.

MUST WATCH FOR EVERYONE.

 

এবার কিছু স্পইলারে আসি

এই ঐতিহাসিক রেস্কিউ মিশানে ক্যানাডিয়ানদের অবদান সেভাবে এখানে দেখান হয়নাই, বলে মুভি রিলিজ হবার পর ক্যানাডায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আমেরিকানরা সব সময়েই তাদের মুভিতে তাদের বেশি গুরুত্ব দেবে এটাই আসলে স্বাভাবিক।

এয়ারপোর্টে রেস্কিউ ঘটনাগুলা সম্পূর্ণই কাল্পনিক, যেভাবে সব কিছু পাট পাট করে অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া দেখানো হয়েছে, সেটা দেখার সময়েই বুঝা যায় এতটা কখনওই বাস্তবে হয়না। তবু যেহেতু কেউই শেষমেশ কি হবে, জানতোনা, তাই এ ভাবে ফিকশানালাইজড করাকে পরিচালকের মুনশিয়ানা হিসেবেই গৃহীত হয়। অস্কারেও Best Movie হিসেবে পুরস্কার জিতে নেয়ার সমূহ সম্ভাবনা Argo এর।

পলিটিকাল থ্রিলার এরকম হলেই মেনস্ত্রিমে মানায়। The Ides of March আর একটা জটিল পলিটিকাল থ্রিলার। কিন্তু ওটার কাহিনী কি সত্যি ঘটনা অবলম্বনে ছিল ?
JFK এর নাম শুনেছি। অনেক। দেখে ফেলব এখন যেহেতু আবার শুনলাম।
Manchurian Candidate আর একটা সলিড পলিটিকাল থ্রিলার, অনেক আগে দেখসিলাম। কিন্তু argo এর প্লাস পয়েন্ট তো বললাম। আমার মনে হয়না, অগুলা একটাও এতটা ফাস্ট পেসড এবং সিম্পল ওয়ে তে সত্যি ঘটনা টা বলতে পেরেছিল। সেদিক থেকে এটা আমার দেখা one of the best.

সত্যি ঘটনা জানতে ১৯৮১ সালের CBC movie “Escape from Iran: The Canadian Caper”
আর ডকুমেন্টারি “Escape from Iran: The Inside Story. Les Harris” দেখতে পারেন। এগুলা কোনটাতেই কোন ভুয়া মুভি এর উল্লেখ নাই, বরং ক্যানাডিয়ানদের সহযোগিতার ব্যাপারে বিস্তারিত বলা আছে।

Argo (2012)
Argo poster Rating: 7.8/10 (391771 votes)
Director: Ben Affleck
Writer: Chris Terrio (screenplay), Tony Mendez (based on a selection from "The Master of Disguise" by), Joshuah Bearman (based on the Wired Magazine article "The Great Escape" by)
Stars: Ben Affleck, Bryan Cranston, Alan Arkin, John Goodman
Runtime: 120 min
Rated: R
Genre: Drama, Thriller
Released: 12 Oct 2012
Plot: Acting under the cover of a Hollywood producer scouting a location for a science fiction film, a CIA agent launches a dangerous operation to rescue six Americans in Tehran during the U.S. hostage crisis in Iran in 1980.

(Visited 94 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Alamgir Hussain says:

    কয়েকটা সিপ এক্সিডেন্ট এর মুবির লিং কি দেয়া যাবে ?

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন