The Messenger – যুদ্ধে নিহতের খবর প্রেরকদের গল্প ( অসাধারণ!!! )

অনেকদিন পর একটা স্লাইস অফ লাইফ ফিল্ম দেখলাম, এত ভাল লাগলো বলে বোঝাতে পারবনা। এ ধরনের ফিল্ম এর সুবিধা হচ্ছে কোন মেলো ড্রামা নেই, রিয়েলিস্তিক কিন্তু ফিল গুড। অসুবিধা হচ্ছে মুভি শেষে কেমন যেন বিষণ্ণ লাগে। Oren Moverman এর The Messenger শেষ করে তাই ভাল লাগার একটা স্নিগ্ধ অনুভুতির সাথে সাথে কেমন একটা শূন্যতা শূন্যতা ভাব তৈরি হয়েছে। কিন্তু আবারও দেখতে ইচ্ছা হচ্ছে মুভি টা। আচ্ছা বেশি কথা না বাড়িয়ে আগে গল্প টা বলে ফেলি।

সদ্য ইরাক ওয়ার ফেরত সার্জেন্ট উইল এর উপর নতুন কর্তব্য পড়েছে – CNT (Casualty Notification Team)। যুদ্ধে শহীদ দের ঘরে ঘরে গিয়ে দুঃসংবাদ পৌঁছে দেয়া। শুনেই বুঝতে পারছেন, কতটা সংবেদনশীল একটা কাজ! কিন্তু কাজ তো। করতেই হবে… উইল কে এ কাজে সিনিয়র হিসেবে থাকবে ক্যাপ্টেন টনি স্টোন। শুরু হয়ে গেল স্কুল অফ লাইফ। এর মাঝে উইল এর গার্ল ফ্রেন্ড বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয় উইল এরই চেনা আর একজন কে, কারন উইল বিয়ে করতে প্রস্তুত না। তাছাড়া যুদ্ধ থেকে ফিরে এসেও উইল শুধু শারীরিক দিক থেকেই আহত না, মানশিক দিক থেকেও। যুদ্ধের ভয়াবহতা যে দেখেছে, সে খুব শীঘ্রই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেনা। নতুন কাজে টনি তাকে মিলিটারি রুলস ফলো করতে বলে, কিন্তু উইল বুঝতে পারে, যে কতরকম আপত্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় যখন মৃত ব্যাক্তির ফ্যামিলি কে নিজের মুখে জানাতে হয়। ক্যাপ্টেন টনির মত সে পারেনা অত রুলস এ চলতে। তাই সে এক সময় এদেরই মাঝে সদ্য বিধবা একজনের প্রেমে পড়ে যায়।  ক্যাপ্টেন টনির সাথেও চমৎকার বন্ধুত্ব তৈরি হয় একি সাথে কাজ করতে করতে। কারন ২ জনই একা।


মুভি টা শুরু থেকেই এঙ্গেজ করে রাখে দুর্দান্ত অভিনয়, সংলাপ এবং সিনেমাতগ্রাফির জন্য। আই উইশ এটার চিত্রনাট্য টা হাতে পেতাম। সিরিয়াস মুভি হলেও অনেক হিউমার আছে সংলাপে।যেটা চরিত্রগুলার প্রতি ভালবাসা তৈরি করতে হেল্প করে।

উইল এর চরিত্রে Ben Foster কে প্রথম এরকম সিরিয়াস কোন রোল এ দেখলাম, বাচ্চা বাচ্চা চেহারার বেন এর কাস্টিং টা কেমন যেন লাগলেও, বেন অভিনয় করেছেন ভাল। একদিকে টনির চরিত্রে Woody Harrelson জাত অভিনেতা , তার সাথে পাল্লা মিলিয়ে একি স্ক্রিন শেয়ার করা সহজ কাজ নয়। Ben Foster তাই আমার কাছে ফুল মার্কস পাবে, তার চরিত্রায়ন সুন্দর হয়েছে। ছেলেটার আরও মুভি দেখার আগ্রহ তৈরি হল।

Woody Harrelson কে প্রথম ভাল লেগেছিল Natural Born Killer এ নায়ক / খলনায়ক ভুমিকায়। তখন থেকেই বুঝেছি এই লোক কোন লেভেলের অভিনেতা । এই মুভি তে আবার বুঝলাম। তার সংলাপ বলা, হিউমার টাইমিং ,বডি ল্যাংগুয়েজ দারুন। শুরু তে Ben আর Woody এর সিন গুলা Denzel Washington এর Training Day কে মনে করালেও পরে দুজনের বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথন, সৃতিচারণ, টোটাল সব কিছু মুভি টাকে অন্য লেভেলে নিয়ে গেছে । আই উইশ আরও বেশি কিছু দেখাতো ওদের নিয়ে। কিন্তু Ben কে মূল চরিত্রে রেখে Woody কে পার্শ্ব চরিত্র তেই রাখা হয়েছে। তাই ক্যাপ্টেন টনি স্টোন এর কোন ব্যাক স্টোরি নেই।

মুভি তে তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র টা করেছে Samantha Morton একজন বিধবা, যার হাসবেনড মাত্র যুদ্ধে শহীদ হল। এই মহিলা কে আগে কখনও দেখেছি বলে মনে পড়েনা। কিন্তু কি যে স্নিগ্ধ কি যে সুন্দর , একটু বাল্কি, কিন্তু চরিত্রে পুরা খাপে খাপে মিলে যায়। তার সাথে Ben Foster এর কেমিস্ট্রি টা যায়নাই আসলে। Ben কে এমনি বাচ্চা লাগে, তার উপর Samantha এর সাথে তার লাভ আংগেল টা ঠিক গ্রহন করতে পারিনাই, ওদের মাঝে আরও ইফেক্টইভ কিছু সিকুএন্স দরকার ছিল যাতে সম্পর্কের গভীরতা বিশ্বাসযোগ্য লাগে। এই এতটুকুই দোষ পুরা মুভি এর। কিন্তু দেখতে কোন একটা সিন ও অস্বাভাবিক লাগেনাই, চিত্রনাট্য এবং সংলাপ এত সুন্দর ছিল, এডিটিং এত পারফেক্ট ছিল যে মন্ত্রমুগ্ধের মত দেখে গেছি দেড় ঘণ্টা।

অসাধারণ কিছু ডায়লগ, সুপার টাইমিং , সিনেমাটোগ্রাফি এবং আবহ সঙ্গীত সব মিলায় পারফেক্ট। পরিচালনা  ৯/১০ ।

যুদ্ধে আহত নিহত দের খবর আমরা শুধু টিভি তেই দেখি , কয়জন কখনও শহীদ দের ফ্যামিলির কাছে গিয়েছি, কয়জন ফানারেলে গিয়েছি? অথচ যুদ্ধের সময়েও দেশের মানুষ তাদের স্বাভাবিক জীবন যাপনই করে, টিভি মিডিয়াও কখনও ভাল করে এই ফ্যামিলি গুলার কথা বলেনা, অথচ ভাবতে পারেন কত টা ত্যাগ স্বীকার করে যোদ্ধারা এবং যোদ্ধা পরিবারগুলা শুধু দেশরক্ষার্থে ??!

একটা বোধ জাগাবে, কিছুক্ষণের জন্য হলেও ভাবাবে, যদিও এটা কোন ক্রাইম ড্রামা না, ওয়ার ড্রামা। সুতরাং আপনজনের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পরের রিএকশান দৃশ্যগুলা ছাড়া আর সব কিছুই ঠাণ্ডা মেজাজের।

আর কোন মুভি এই ইস্যু নিয়ে ডিল করেছে কিনা জানিনা। জানা থাকলে দেখব। ওয়ার মুভি বেশি বেশি দেখতে হবে। অনেক আবেগাপ্লুত আছি।

 

imdb link: http://www.imdb.com/title/tt0790712/

torrent download link: http://kat.ph/the-messenger-2009-720p-brrip-x264-700mb-yify-t6446900.html

(Visited 39 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন