অ্যাকশন-কাটের প্রেমিকদের গল্প।
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

নিহিলিস্ট ফিল্মমেকার ওয়াহিদ তারেক, ভয়ংকর অনিমেষ আইচ আর প্রেমিক পুরুষ মেজবাউর রহমান সুমনকে নিয়ে আড্ডায় আয়নাবাজি নির্মাতা অমিতাভ রেজা বসেছেন যমুনা ফিউচার পার্কের সিনেমা হলে। সিনেমার লোকেদের আড্ডা হবে সিনেমার জায়গায়। thats the spirit!

৫ বছর আগের সুপারম্যানের পর কেন কোন কাজ করছেন না জানতে চাইলে সুমন বলেন তিনি টেলিভিশনের স্বল্প পরিসরে গল্প বলাটা আর উপভোগ করছেন না, তার ইচ্ছা এর থেকে বড় লম্বা সময় নিয়ে যে গল্পটা বলতে চান, সেটা বলতে চাওয়া।

ইদের স্মৃতি প্রসঙ্গে অমিতাভ কোল্ড ড্রিঙ্কস খাওয়ার কথা বলেন, আগে কোল্ড ড্রিঙ্কস কেনার টাকা পেতেন না, অনিমেষ তার সাথে গলা মিলিয়ে পোলার আইসক্রিমও জুড়ে দেন, কোল্ড ড্রিঙ্কস আর পোলার আইসক্রিম একসাথে খেয়ে ঈদ পালন করতেন। ওয়াহিদ তারেকের কাছে ঈদ মানেই সব বন্ধুদের একত্র হওয়া, আড্ডা দেয়া…sense of freedom! সুমনের স্মৃতিটা দারুণ মজাদার। পাটক্ষেতের ভেতরে গিয়ে সিগারেট খাওয়া, গন্ধ লুকতে লেবু পাতার ব্যবহার। তবু কিভাবে যেন সবাই বুঝে ফেলত, সুমন ভাবতেন আরে ওদের তো দারুণ বুদ্ধি। আসলে ওরা লেবু পাতার গন্ধ পেয়েই বুঝে ফেলত পোলাপান বিড়ি ফুকে আসছে।

কেন ছবি বানাই? অমিতাভ প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “আমরা জানি আমাদের সবাইকে কি excited করে, ঐটা ছাড়া তোমাদের inspiration কি ছবি বানানোর পেছনে?”

সুমন চলে যান তার স্কুল জীবনে… বাংলা একডেমির কোথায় যেন কলকাতার সুমন চট্টোপাধ্যায়ের পেটকাটি চাদিয়াল বাজছিল, সেটা শুনেই গীটার কিনে গান করার শখ হয় তার। সেখান থেকেই শুরু… সিনেমার প্রতি প্রেমের কারণে না মোটেই, ছবি আঁকা, গান শোনা সেখান থেকেই ভাবনার জায়গাটা তৈরি হয়েছিল তাঁর। ওয়াহিদের শুরুটা আরও ভিন্ন – দেয়ালে চিকা লিখতেন তখন তিনি। হাত দিয়ে যতটুকু ছোট দেখিয়েছিলেন, সেটা ধরে অমিতাভ পালটা প্রশ্ন করলেন,
– “যতটুকু দেখাচ্ছ এত ছোট ছিলেনা নিশ্চয়ই তুমি কলেজে”।
– “না কলেজে আমি খানিকটা ছোটই ছিলাম। পরে লম্বা হইসি।”
– “কি দেখে লম্বা হইছ? …আচ্ছা থাক। সেটা পরে…”

একদা অ্যালিয়াস ফ্রন্সেসে ঘটনাচক্রে দেখে ফেলেন তারকাভস্কির একটা সিনেমা। সেটা দেখার পর থেকেই মাথা ঘুরে যায় ওয়াহিদের। উপন্যাস খুব প্রভাবিত করত ঠিকই, কিন্তু মানুষের ইমোশানের আর অভিজ্ঞতার যেই চেহারা তিনি ঐ ছবিতে দেখলেন, মনে হয়েছে এটা তাকে করতেই হবে।

চারুকলার ছাত্র অনিমেষের কাছে কালার, ফ্রেম, কম্পোজিশানের বাইরেও বেশি ইম্পরটেন্ট মানুষ। পর্দায় যেই মানুষটাকে দেখি, তাঁর সত্য উপস্থিতি।

 

পরস্পরের প্রিয় কাজ সম্পর্কে চলে আসে সুমনের “সুপারম্যান”, অমিতাভর “হাওয়াঘর”, “অপেক্ষার বৃষ্টি আর একটি গোল্ডফিশের অপমৃত্যু”, অনিমেষের “গরম ভাত ও একটি নিছক ভূতের গল্প” এর কথা। ওয়াহিদ তারেকের “আলগা নোঙ্গর” এর ট্রেলারটির কথা বিশেষভাবে বলেন সুমন। বাংলা সিনেমার এমন ভিজুয়াল আগে চোখে পড়েনি, যা আলগা নোঙ্গরে দৃশ্যমান, অনেকটা ইউরোপিয়ান আদলে… বলতেই অমিতাভ মজা করে বলেন, আরে ওয়াহিদ তো ইউরোপিয়ানই, ওর বাংলাদেশের পাসপোর্ট নাই তো। কি বল তুমি?

এমন মজা করতে করতে অমিতাভ নিজের আয়নাবাজি পরবর্তী মৌসুমেই আবার বাংলা নাটক বানানোর ব্যাপারে অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, কিভাবে তাকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হয়েছিল বিভিন্ন মহলে যে কেন তিনি আবার নাটক বানাচ্ছেন, আয়নাবাজি অরিজিনাল সিরিজটায় তিনি সুপারভাইজার থাকলেই তো পারেন। অমিতাভ ঋত্বিক ঘটকের রেফারেন্স টেনে বলেন, সিনেমার প্রেমে পড়ার কিছু নাই আসলে। মদ্দা কথা, আমরা আমাদের content নিয়ে হাজির হতে পারি কিনা। সেটা যে মাধ্যমেই হোক না কেন, টিভি, ইউটিউব যেকোনো ভাবে। কথা বলাটা জরুরী। এ সময়ে বাংলাদেশের অলিগলিতে যে গল্প আছে, সাঁওতালদের গ্রামে যা হচ্ছে, সেগুলাই গল্পে আসা উচিত, ঠিক সেই গল্পটাই হতে হবে এমনও কোন কথা নাই, তবে সেটা থেকে কতটুকু শিক্ষণীয় আছে মানুষের সেটা থাকা উচিত। এখন সেগুলা সিনেমায় হাজির করতে পারছিনা, তো অন্য কোথাওই সই।

আলাপের পরের অধ্যায় Artist Preference। দারুণ কিছু তথ্য আর কথা চলে আসলো। প্রথমে সুমনের জয়া আহসান প্রীতি – আত্মপক্ষ সমর্থনে বলেন, জয়া যখন শুরু করেছিলেন তখন এতটাই কমিটেড ছিলেন, যে দেখা গেল, একটা চরিত্র নিয়ে সুমন যতটুকু ভাবতেন, জয়া তাঁর চেয়েও কয়েক ধাপ এগিয়ে আরও ডিটেইলে ভেবে প্রস্তুত হয়ে সেটে আসতেন। অনিমেষ Trust আর comfort zone এর কথা বলেন, এমনকি তিনি তাঁর সেটে এমন কাউকে সবসময় রাখার চেষ্টা করেন, যে সবসময় ফুর্তিতে থাকবে, কমেডি রিলিফ হবে। অমিতাভ আয়নাবাজির পর তাঁর “মার্চ মাসের শুটিং” এও নাবিলাকে নিয়েছেন। নাবিলার ব্যাপারে, তনি অকপটে বলেন, Nabila is not a great actress. তার অভিনয়ের চেয়েও বড় বিষয় অমিতাভের কাছে (১) অমিতাভের প্রতি তার অগাধ আস্থা। (২) নাবিলাকে পরিচালনা করার সময় অমিতাভের মনে হয় তিনি একটা কাদামাটিকে পরিচালনা করছেন, অনেক আরাম দেয়।

ও আমাকে এত বেশি ভরসা করে, এই ভরসাটা আমাকে যেই করবে, তাকেই আমি ডিরেক্ট করতে পারবো।“

এরকম আরও অনেক দারুণ দারুণ মজার মজার কথাবার্তাতে মুখর ছিল পুরা আধা ঘন্টা। কোন দিক দিয়ে চলে গেল টেরই পাইনাই। … সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে কোন নায়িকাকে দেখতে চাও?… ওয়াহিদের কাছে বাকি তিনজনের শক্তিশালী দিক কোনগুলি… আন্তর্জাতিক কোথাও সুমনের যেকোনো একটা কাজ নিয়ে যেতে হবে গান, চিত্রশিল্প বা ভিডিও ফিকশান, কোনটা নিয়ে যাবে সুমন?

…মেজবাউর রহমান সুমনের মনে গেঁথে যাওয়ার মত একটা কথা– ফিল্ম যদি তার ঘর হয়, গান সে ঘরের বারান্দা। একটা ভেন্টিলেশানের মত যেটা ছাড়া মনের শান্তি পাওয়া যায়না।

 

এখনকার নাটক কেমন লাগছে?
অমিতাভের কাছে মনে হয়েছে, নতুন ফিল্মমেকাররা ক্যামেরার মান, ফ্রেমিং আর লাইটিং নিয়ে এত ব্যস্ত যে content টা পরিষ্কার না। ক্যামেরার কাছে চুড়ি ধরে অফ ফোকাস অন ফোকাসের খেলা করছে শুধু। অনিমেষ মনে করেন, এদের মাঝে আইকনের একটা অভাব দেখা দিয়েছে। তাই বাকিদের কাছে তার অনুরোধ – সিনেমা বানাও আর যাই বানাও, সিনেমার একটা ব্যাসিক নিয়ে টেলিভিশনে বা ইউটিউবে হাজির থাইকো। তাহলে নতুনদের জন্য একটা স্ট্যান্ডার্ড থাকবে অনুসরণ করার মত।

 

সবশেষে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা পছন্দের ফিল্মগুলার কথা বললেন – মারাঠি সিনেমা “Court” এর ভূয়সী প্রশংসা করলেন অমিতাভ, সুমন জানালেন “Tithi” এর কথা। “Masaan” এর কথাও আসলো।

এভাবেই আড্ডা শেষ হল মেসবাউর রহমান সুমনের গিটারে তার ব্যান্ডদলের “শহর” গান দিয়ে… তবে এই আড্ডা চলবে টিভিতে না হলেও যেকোনো জায়গায়… অংশ নিতে চাইলে চলে যান তাদের ডেরায় – নিকেতনে বা অন্য কোথাও… ওনারা থাকবেন তার কথা বলার জন্য… বিনোদিত করার জন্য।

 পুরো অনুষ্ঠানটির লিঙ্ক

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন