The Man from Earth (2007) – আমাদের মাঝেই আছে গুহামানব !!

MFE-Home-Page-Background

হঠাৎ করে আমি যদি বলি আমার বয়স ১৪,০০০ বছর, গুহামানব থেকে আমার শুরু। বিশ্বাস করবেন না জানি। কারন আমার বাবা মা আছে, আত্মীয় স্বজন আছে, তারা আমাকে ছোটবেলা থেকে চেনেন। কিন্তু এমন যদি হয়, আপনি আমার এমন কাউকে চেনেন না, তাহলে কি কোনভাবে প্রমাণ করতে পারবেন আমি গুহামানব হতে পারিনা? বায়লজিকালি মানুষ ১৯০ বছর বাঁচতে পারে, আমরা পারিনা আমাদের নানান বদভ্যাস আর পরিবেশের কারণে। কিন্তু ব্যাতিক্রম কিন্তু সর্বত্র থাকে। এমন কেউ কি থাকতে পারেনা আমাদের মাঝে যার বয়স বাড়ার হার আমাদের মত না?

আপনারা ভাবতে পারেন, আমি পাগল হয়ে গেলাম নাকি? কি বলছি? কিন্তু একটা জিনিষ চিন্তা করেন, আপনার মত ৪-৫জন ধরেন, আমাকে চেনেন, হুট করে একদিন আমি ঘোষণা দিলাম যে আমি আপনাদের ছেড়ে চলে যাবো, স্থানান্তর করবো, অন্য কোন দেশে বা এমন কোথাও যেখানে আপনার সাথে আমার আর তেমন দেখা হবেনা। কিংবা আমি চাইলে আপনি কখনওই পারবেন না যোগাযোগ রাখতে। যাওয়ার দিন, ফেয়ারওয়েলে আমি জানিয়ে গেলাম আমি এভাবে স্থানান্তর করেছি, লক্ষ্য লক্ষ্য বার, পরিবার থেকে পরিবারে, দেশ থেকে দেশে, সমাজ থেকে সমাজে, যুগ থেকে যুগে, সভ্যতা থেকে সভ্যতায়…

DSmith
ভাব্বেন মজা করছি, কিন্তু যদি সিরিয়াস হই, এবং আমাকে ইতিহাস নিয়ে আপনার জিজ্ঞেস করা প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর দেই, তবুও নিজেকে শতভাগ কি প্রমাণ করতে পারব? মনে হয়না। কেননা সেটা একজন তুখোড় ইতিহাসবিদও পারবেন।

সহজ কথা, সবাই একদিন না একদিন মারা যাবে, আমি যাবনা, কিন্তু আপনার মৃত্যুর সময় আমি থাকব এমনটাও নিশ্চিত না, কেননা আমি কেবলই স্থানান্তর করি।
tmfe-group
এমনই একটা চরিত্রকে নিয়ে সম্পূর্ণ অরিজিনাল একটা মুভি The Man from earth। সাইন্স ফিকশান নাম দেখে যদি দুর্দান্ত ইস্পেশাল ইফেক্ট আর থ্রিলিং কিছু ভেবে দেখতে বসেন, তাহলে হতাশ হবেন। কেননা এটা One of those Rare Movies, যেখানে এক স্কলার এর বিদায়ী পার্টি পরিণত হয় এক জিজ্ঞাসাবাদ অনুষ্ঠান। কেননা বিদায়বেলায় যখন স্কলারকে জিজ্ঞাশা করা হয়, কেন এই স্থানান্তর, তখন সে জানায়, এটা তার সহজাত, সে ১৪০০০ বছর ধরে স্থানান্তর করে আসছে। আসর জমে যায় যখন সবাই বুঝতে পারে, স্কলার মজা করছেনা। সেখানে পদার্থবিদ, অধ্যাপক, মনোরগবিশেষজ্ঞম, সব পেশার লোকই ছিল, সবাই বাইরে থেকে দেখাচ্ছে তারা বিশ্বাস করছেনা, ভেতরে ভেতরে আসলে সবাই fascinate করছে যে স্কলার যা বলছে তা সত্যি। কারণ, স্কলারের ইমেজ।

একে বলে থিঙ্কিং ম্যানস সাইন্স ফিকশান। হলিউডের জাঁকজমকপূর্ণ মুভি দেখতে দেখতে এটা দেখা শুরু করলে একটু সময় লাগবে ঢুকতে। কোন A লিস্ট অভিনেতা নেই, নেই কোন ইস্পেশাল সিনেমাটোগ্রাফি, আহামরি ক্যামেরা আঙ্গেল। শুধু কথোপকথন, তাও অনেকটাই ইতিহাসবিষয়ক। তবে যুক্তিতর্ক। বিশ্বাস করেন আর না করেন, আপনার ব্যাপার। কোন ফ্ল্যাশব্যাক নেই। নেই কোন ন্যারেশান।
the_man_from_earth
কিন্তু বাস্তব অভিনয় ও সংলাপ এবং ধারালো একটা ক্লাইম্যাক্স সব সময় উত্তেজনা ধরে রাখবে, চেহারায় বাকি সবার মতই একটাই ভাব ” আসলেই?…”, শুধু যদি মনোযোগ দিয়ে মুভিটা দেখেন।

তবে মুভিটা আরও ভাল পরিচালকের হাতে পড়লে দুর্বল আলো নির্দেশনা আর চিত্রনাট্যে ভিজুয়াল ইনোভেশানের কমতি দূর হত। এটা এমন একটা মুভি, যেটা শেষ হলেো আপনার জানতে ইচ্ছা করবে আরও, যেমনটা আসরে বাকি সবার হয়েছিল। রাত হয়ে যাচ্ছে, বাড়ি ফিরতে হবে, তাই শেষ করতে হচ্ছে এমনভাবে শেষ হল।

হয়ত এমন জটিল একটা গল্প নিয়ে সামনে আরও মুভি দেখতে পাব আরও উদ্ভাবনী আইডিয়া নিয়ে। এ ধরনের মুভিই সাইন্স ফিকশানের প্রতি আগ্রহ ১০গুন বাড়িয়ে দেয়।

দেখেন। নতুন কিছু…পাবেন। 🙂

http://www.imdb.com/title/tt0756683/
torrent: http://www.torrenthound.com/hash/40ec2d6beb4b40f528250f535411f2bc79d4140a/torrent-info/The-Man-from-Earth-2007-720p-BrRip-x264–YIFY

(Visited 118 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন