মুভি রিভিউ- 96 (tamil)
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0
মুভি রিভিউ- 96 (tamil)
আইএমডিবি রেটিং ৯.২
পার্সোনাল রেটিং ১১
(রিভিউটা হয়ত খানিকটা বড় হয়ে যাবে কিন্ত সব বলতে না পারলে নিজের আত্মতৃপ্তি কাজ করবে না)
সিনেমা রিভিউ এখন খুব একটা লেখা হয় না। খুব ভালো লিখি তাও না কিন্ত ভালো লাগতো লিখতে। লাস্ট কোন সিনেমা নিয়ে রিভিউ লিখেছি সেটাও বছর দুই এক আগে কিন্ত একটু আগে এই সিনেমাটা ‘ফাইনালি’ যখন শেষ করলাম মানে সিনেমাটা প্রথমে একবার শেষ করে নাম্ব হয়ে ছিলাম টানা আধা ঘন্টা। মাথা কোন কাজ করতেছিলো না, সেই ঘোরে বাধ্য হলাম বাইরে চায়ের দোকানে গিয়ে চা-টা খেয়ে আসতে। তারপর আবার ২য় বার দেখতে বসলাম শেষ হলো কিছুক্ষন আগে। মাথার চাপটা খানিকটা কমে গেল আর মনে হলো এই সিনেমাটার সম্পর্কে কিছু না লিখলে অনেক বড় ক্রাইম হয়ে যাবে আর তারপরই লিখতে বসা।
জীবন অনেক বেশি বাস্তব। চাওয়া পাওয়ার সামঞ্জস্যতা থাকে অনেক কম। সেই অর্থে বাস্তবতা আর সময়ের কাছে পরাজিত হতে হয় ভেতর থেকে সবচেয়ে বেশি করে চাওয়া কোন জিনিসকে নিয়েই। অধিকাংশ মুভিগুলো দেখে আমাদের মুখে প্রচলিত হওয়া ‘জীবন সিনেমার মত না, অনেক কঠিন’ এই কথাটার প্রতিউত্তরে এবং জীবন যে আসলেই অনেক কঠিন আর সময় যে কত বড় একটা নিয়ামক আমাদের জীবনে সেটার বাস্তবতা অনেক সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এই ’96’ এ। ভূমিকা অনেক বেশি হয়ে গেল খুব সম্ভবত এবার সিনেমায় ঢোকা যাক।
ফার্স্ট লাভ, ব্যাপারটা অনেকের কাছে বয়সে বড় হয়ে যাবার পর হাসির কারন আবার অনেকের কাছে এত সেন্সিটিভ আর এত বেশি সিরিয়াস যে এটা থেকে সরে আসতে পারে না এবং বেঁচে থাকার গোটা সময়টাতে এটা নিয়েই থাকতে চায়, যারা পরের ব্যপারটায় সিরিয়াস তাদের জন্য এর থেকে আর ভালো উপস্থাপনের আর কোন সিনেমা তৈরি হয়েছে বলে আমার জানা নেই অন্তত আমি দেখি নি এখন পর্যন্ত।
প্লটঃ ১৯৯৬ সালের দশম শ্রেণী পড়ুয়া কতজন ছেলে মেয়ে ২০১৬ সালে ২০ বছর পরে একটা রিইউনিয়নের ব্যবস্থা করে যেখানে তারা সবাই আবার একত্রিত হয়। গল্পের প্রধান চরিত্রে থাকা ভিক্রাম ভেধা খ্যত ভিজায় যার নাম রামাচান্দ্রান আর সাউথের ত্রিশা যার নাম কিনা জানু তাদের ২২ বছর পর দেখা হয় আবার সেই রিইউনিয়নে। সিনেমার গল্পে তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো আর ২২ বছরে তাদের জমে থাকা প্রশ্ন উত্তরের আবর্তে চলতে থাকে সিনেমার রানটাইম। এর থেকে প্লট নিয়ে বেশি কিছু বলা ঠিক হবে না সম্ভবত। সেই প্রশ্নের উত্তর আর ঘটনাগুলি বুঝতে হলে সিনেমাটা দেখা আবশ্যক তবে এতটুকু বলে রাখি সিনেমাটা চলার সময় আমার এক বন্ধু পাঁচটা জায়গায় পজ করতে বাধ্য হয়েছিলো এবং এই পাচটা জায়গাতেই তার চোখ থেকে পানি পড়ছিলো সাথে হাসতেছিলো একই সাথে।
মেকিংঃ শুধু বলবো পিচ পারফেক্ট এবং পিন পয়েন্ট। রোমান্স জনরার অন্যান্য সিনেমার মত কোন লুতুপুতু বা ইললজিকাল এক সেকেন্ডের মতনও কোন সীন নাই। সিনেমাটোগ্রাফি যথেষ্ট ভালো এবং ক্যমেরার কাজ অসাধারণ। সিনেমার এডিটিং একদম পারফেক্ট। সিনেমার কোন জায়গাতেই দুর্বোধ্যতা নাই। আর ব্যকগ্রাউন্ড মিউজিক চমৎকার। ইস্টার্ন মিউজিকই ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ করে বাঁশিটা, যার কারনে সিনেমাটা এক্কেবারে ‘র’ । যাদের গান কেটে দেখার অভ্যাস যেটা আমারো কিন্ত কাটা যাবে না কোন গানই কারন প্রত্যকেটা গানই ছবির মোশনে নায়ক নায়িকার না বলা কথাগুলোই। তাই বলবো লিরিকটা ভালোভাবে পড়তে।
সবশেষে বলবো যারা ফার্স্ট লাভ নিয়ে অনেক বেশি সিরিয়াস এবং মনে প্রাণে মানেন আর বিশ্বাস করেন সেটার স্মৃতি নিয়েই আরো কয়েকটা লাইফ কাটিয়ে দিতে পারবেন তাদের জন্য মাস্ট ওয়াচ মুভি এটা। যাদের চায়ের সাথে ‘টা’ খাওয়ার অভ্যেস তাদের বলবো পর্যাপ্ত ‘টা’ সাথে রাখার জন্য, কারন এটার প্রয়োজন পড়বেই। যারাই সিনেমাটা দেখতে বসছেন এতটুকু বলবো, আপনি আপনার জীবনের অন্যতম সেরা ২ ঘন্টা ৩৮ মিনিট কাটাতে যাচ্ছেন। তো, হ্যপি ওয়াচিং। আর পোস্টে থাকা লাস্ট মোমেন্টের ছবিটা এড করার জন্য আগে থেকেই সরি বলে নিচ্ছি যেটার কারন সিনেমাটা শেষ করলেই বোঝা যাবে। 

এই পোস্টটিতে ৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Raihan Raj says:

    মোবাইল উপযোগী পেজ বানান #এডমিন

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন